দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ান হাউজ বাংলাদেশ-এর পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা এ. খলেভনয় (Ms. Alexandra A. Khlevnoy)।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (ZNRF University of Management Sciences)-এর উদ্যোগে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ‘নবীনবরণ ও অভ্যর্থনা ফল-২০২৬’ (Freshers’ Orientation Program & Reception Fall-2026) অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস মুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর), শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নবীন শিক্ষার্থীরা।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান বলেন, জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটির লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া নয়; বরং তাদের কর্মসংস্থানযোগ্য ও দক্ষ গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান চাকরির বাজারে একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।
তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের উপযোগী অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী খরচে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের উজ্জ্বল ও সফল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশিয়ান হাউজ বাংলাদেশ-এর পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা এ. খলেভনয় বলেন, জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা ইতোমধ্যে রাশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল-ফান্ডেড) পরিচালিত বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে শুরু থেকেই সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আয়োজনটি আনন্দঘন ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় গান, নৃত্যসহ নানা আয়োজনে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা পুরো প্রাঙ্গণকে মুখর করে তোলে।




