মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, মহেশপুর(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ভুমিষ্ঠ হয়েছিলাম সুস্থ সবল ভাবেই। আতুড় ঘরে কিসে যেন কামড় দেয়। সেখান থেকেই ঠোটটি আমার ঝুলে গেছে। এখন খুটে খায়, ভিক্ষা তো করি না। সারা দিন কাগজ, পরিত্যক্ত বোতল আর পলিথিন কুড়িয়ে যা হয়, তা বিক্রি করে এক দেড় কেজি চাল কিনে ঘরে ফিরি।
ঠোট ঝুলে থাকার কারণে অনেকে ভয়ও পায়। কিন্ত কি আর করার আছে। পনের বছর আগে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলোম চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার দেখে অপারশেনের কথা বলেছে। কিন্তু নিজেরই পেট চলে না। অপারেশন করবো কি দিয়ে ?
কথাগুলো এক দমে বলে গেলেন ঝিনাইদহ পৌরসভার পবহাটী গ্রামের আব্দুস সালাম। আব্দুস সালামের বয়স ষাট পেরিয়েছে। স্ত্রী ও এক ছেলে মিন্টুকে নিয়ে তার সংসার। তিনি জানালেন, আগে বাড়ি ছিল মাগুরার সতিজাতপুর গ্রামে। বিয়ে করে ঘরজামাই হয়ে পবহাটীতেই থিতু। ছেলে মিন্টু ভাজা মুড়ি বিক্রি করেন। বাপ-বিটায় যে ইনকাম তা দিয়ে টেনেটুনে সংসার চলে। পনের বছর আগে চিকিৎসক বলেছিলেন কুড়ি হাজার টাকা হলেই অপারেশন করে ঠোট ভাল করা সম্ভব। এখন তো অনেক দিন হলো। দুর্মুল্যের বাজারে হয়তো পঞ্চাশ হাজার হলেই আমার ঠোটটি স্বাভাবিক হতো।তার বক্তব্য, কেই কি নেই যে আমার চিকিতসার খরজ দিবে?




