মেহের আমজাদ,মেহেরপুর (১৬-০৩-১৮): গ্রাম-বাংলায় ঢেঁকির কদর আর নেই। মা-বোনেদের,বৌ-ঝিদের ঢেঁকিতেও আর পাড় দিতে হয় না। যান্ত্রিক যুগের মিল-কলকারখানার বদৌলতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি’র প্রচলন আর দেখা যায় না। তবে কালে ভদ্রে মেহেরপুরে কোন কোন গ্রামে এখনও ঢেঁকি’র দেখা মেলে। যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঢেঁকি হয়ে থাকবে কল্পলোকের কাহিনী এবং এক সময় হয়ত স্থান পাবে যাদু ঘরে।
মেহেরপুর জেলার গ্রাম-গঞ্জে এখন বৈদ্যুতিক মোটর ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত মেশিনে ভাঙা হয় ধান,পিসাই হয় গম, করা হয় মসুরী,কলাই-এর ডাল এবং চিড়াসহ নানা রকম কাজ। একটা সময় ছিল যখন প্রায় প্রতি বাড়িতেই ঢেঁকির ব্যবহার ছিল। ধান ভেঙ্গে চাল তৈরী করা, চিড়া কুটা,ডালের বড়ি দেওয়ার জন্য ডাল কুটাসহ আরও অনেক কাজ ছিল ঢেঁকি দিয়্।ে আর ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে এসব কাজগুলো বাড়ির বৌ-ঝিদের করতে হতো।
এমনকি ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগের দিন ঢেঁকি মঙলানো অর্থাৎ ঢেঁকিতে আলো ধান ভেঙ্গে ক্ষির তৈরি করে প্রতিবেশিদের মাঝে বিতরন করা হত। যা বর্তমান প্রজম্মের কাছে গল্পের মত শোনাবে। তবে এখনও গ্রামের কোন কোন বড়ির বৌ-ঝিরা আলো ধান ভাঙ্গতে, শীতের সময় কুমড়ার বড়ি দেয়ার জন্য মাঝে মধ্যে ঢেঁকি পাতে উঠানে। পাড় দেয় তাতে এতে তারা একদিকে মনের তৃপ্তি পায় অপর দিকে বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ঢেঁকির ব্যবহার যান্ত্রিক যুগে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ।


