এনআরসিতে বাদ পরলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ভারতের আসাম রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়েছেন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারের সদস্যরাও। তিনি ১৯৭৪ সালের ২৪শে আগষ্ঠ থেকে ১৯৭৭ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সোমবার ওই তালিকা প্রকাশ হওয়ার একদিন পর এ বিষয়টি তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

মঙ্গলবার দিল্লিতে ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মমতা বলেন, আসামের এনআরসি-তে সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারের সদস্যদের নাম না থাকায় আমি অবাক হয়েছি। আমি আর কী বলতে পারি? ওই তালিকায় অনেকেরই নাম নেই।

কেন্দ্রের বিজেপিশাসিত সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, এই দলটি দেশের রাজনীতিতে ‘ভাগ ও শাসন’ নীতি অবলম্বন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারা মানুষজনকে আলাদা করার চেষ্টা করছে, দেশের ভেতর রক্তের বন্যা বইবে এবং গৃহযুদ্ধ হবে।

মমতা বলেন, গতকালই যে ৪০ লাখ মানুষ ক্ষমতাসীনদের ভোট দিলো হঠাৎ করে আজ তারা নিজের দেশেই শরণার্থী।

ভারতের ঐক্য ও বৈচিত্র্যের ওপর জোরারোপ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে পরিবর্তন প্রয়োজন এবং ২০১৯ সালেই এই পরিবর্তন হতে হবে। যা ঝাড়খণ্ডে ঘটেছে তা বিহার বা উত্তরাখণ্ডে ঘটতে পারে। কিন্তু এটা পশ্চিমবঙ্গে ঘটবে না কারণ আমি ক্ষমতায় আছি। অন্ধ্র প্রদেশে আছেন চন্দ্রবাবু নাইডু এবং কর্নাটকে কুমারস্বামী তাই সেখানেও এমন কিছু ঘটবে না।

কেন্দ্রের বৈষম্যমূলক রাজনীতির দিকে কামান দাগিয়ে মমতা আরও বলেন, যদি বাঙালিরা বলে বিহারিরা বাংলায় থাকতে পারবে না, দক্ষিণ ভারতের লোক বলে সেখানে উত্তর ভারতের লোক থাকতে পারবে না এবং উত্তর ভারতের লোক দক্ষিণ ভারতে থাকতে পারবে না। দেশের অবস্থা কী হবে?

উল্লেখ্য, সোমবার ৪০ লাখ ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি প্রকাশ করে আসামের প্রশাসন। রাজ্যের তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষের মধ্যে নাগরিক পঞ্জিতে নাম উঠে দুই কোটি ৮৯ লাখের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।