বিশেষ প্রতিবেদকঃ টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যার্তদের উদ্ধার কাজে এরইমধ্যে অংশ নিয়েছে সেনাবাহিনী। দিনাজপুরে বন্যার পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৯ জন মারা গেছেন।
রোববার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বন্যার্তদের উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনীর আরো ২টি প্লাটুনসহ মোট ৩ প্লাটুন সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রংপুর জেলার গঙ্গাছড়া উপজেলায় শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা তলিয়ে যায়। সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম ও বাঁধ রক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে একটি প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়।
দিনাজপুরে তিস্তা বাঁধে ফাটল দেখা দিলে, সেখানকার পানিবন্দিদের উদ্ধার কাজে আরেকটি প্লাটুন সেনা নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর একটি পর্যবেক্ষক দল তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে গেছেন। এদিকে এ জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৯ জন মারা গেছেন।
শনিবার থেকে রংপুর অঞ্চলে বন্যার্তদের উদ্ধার কাজে নামে সেনাবাহিনী। ঠাকুরগাঁও শহরের কাংগন নদীর পানি বেড়ে সারা এলাকা তলিয়ে গেলে সেখানে ৮৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
এসময় বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি ৬৬ পদাতিক ডিভিশন এর অধীন ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের এক প্লাটুন সেনাসদস্য ৪টি ট্রাইশাক বোট, ৬টি ওবিএম, দরকারি লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পানিবন্দি মানুষ, গবাদিপশু ও গৃহস্থালি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
গেলো ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে তা প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যায় তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল। বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন রুটের রেল যোগাযোগ।
কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ প্রধান সব নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সকাল ৬টায় ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৮ মিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ৯টি উপজেলার তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার নয়টি উপজেলার প্রায় ৩শ’ গ্রাম।
লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ধরলা নদী বিপদ সীমার ১০৮ সেঃমিঃ ও তিস্তা নদী বিপদ সীমার ৬৫ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাসের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে পড়েছে। তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড এ্যালাট জারি করেছে। প্রায় এক লাখ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি উঠে পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মোগলহাটে ও দূর্গাপুরে প্রায় তিন শতাধিক ভারতীয় পরিবার বন্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
নীলফামারীতে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে রোববার সকালে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।



