ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যার রহস্য উদঘাটন হলো না

স্টাফ রিপোর্টার: সাড়ে তিন মাসেও ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যার রহস্য উদঘাটন হলো না। এই খুনের পেছনে একজন বড় ভাই আছে-সরকার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জোরের সঙ্গে বলা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে এরপর আর কিছুই বলা হয়নি।

২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে দুর্বৃত্তের গুলিতে মারা যান তাভেল্লা সিজার। কোন ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধে তাভেল্লা খুন হননি- জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন জানান, একজন বড় ভাইয়ের নির্দেশে এই খুন করেছে কয়েকজন। এরা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য জানানো হয় এবং এই বড় ভাইয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর ঘোষণাও দেয়া হয়। ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাড্ডা এলাকার বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমের নামই উঠে আসে বড় ভাই হিসেবে। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আছেন বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে।

২৬ অক্টোবর দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যার নেপথ্যে কথিত এক বড়ভাই রয়েছে। ‘কথিত এক বড়ভাই ভাড়াটে চার খুনি দিয়ে তাভেল্লাকে খুন করান’।

পুলিশ কমিশনারের এই সংবাদ সম্মেলনের আগের দিন এই খুনে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। এরা হলেন রুবেল (শুটার রুবেল নামে পরিচিত), শরীফ, রাসেল (ভাগ্নে রাসেল হিসেবে পরিচিত) ও রাসেল (চাকতি রাসেল নামে পরিচিত)। পরে গ্রেপ্তার করা হয় এম এ কাইয়ুমের ভাই এম এ মতিন।

পরে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। কিন্তু এই খুন নিয়ে এরপর গণমাধ্যমকে আর কিছুই জানানো হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।

তাভেল্লা হত্যা মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে-জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ শহিদুল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন আসামি, দুইজন স্বাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৫ জন স্বাক্ষী ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনো এই মামলার আলামত উদ্ধার হয়নি।

এই খুনে নাম আসা সেই বড় ভাইয়ের পরিচয় তো প্রকাশিত হলো না-এই মন্তব্যের জবাবে সৈয়দ শহিদুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের যুগ্ম কমিশনার স্যার (মনিরুল ইসলাম কথা বলবেন’।

তবে এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।