মাদারীপুরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন সদর উপজেলা ভুমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আজ রোববার সকালে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ‘হোসনাবাদ মরহুম আনু পুস্তির বাড়ির নিকট হইতে আবুল সত্তার মোড়লের বাড়ি হইয়া চরনাচনা বয়াতীবাড়ি’ পর্যন্ত মাটির রাস্তার নির্মানের ঘটনায় পরিদর্শনে যান সার্ভেয়ার রেজাউল করিম। এর আগে গত ৩০ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ১২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।
মামলার নথি, ভুক্তভোগির অভিযোগ ও এলাকা ঘুরে জানা যায়, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাবিখা প্রকল্পে ‘হোসনাবাদ মরহুম আনু পুস্তির বাড়ির নিকট হইতে আবুল সত্তার মোড়লের বাড়ি ইইয়া চরনাচনা বয়াতীবাড়ি’ পর্যন্ত মাটির রাস্তার সংস্কারের জন্য সদর উপজেলা পরিষদে চিঠি দেয়া হয়। যার জন্য তিন লাখ টাকা খরচ উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই প্রকল্প অনুমোদেনর আগেই চরনাচনা গ্রামের আবুল কালাম পুস্তি ও বাচ্চু পুস্তিসহ বেশ কয়েকজনের জায়গার উপর জোড়পূর্বক মাটি ও গাছপালা কর্তণ করে রাস্তা নির্মাণ করেন অভিযুক্ত কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল।
গত ০৬ মার্চ মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিকার চেয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগিরা। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে উল্লেখিত জায়গার উপর কাজ বন্ধ রাখতে ১৪৫ ধারা জারি এবং এ ব্যাপারে থানা পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতেও নির্দেশ দেন আদালত। পরে ১৪ মার্চ ঘটনাস্থল গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে লিখিতভাবে নির্দেশ দেন সদর মডেল থানার এসআই মোস্তফা কামাল। এরপর কার্যক্রম বন্ধ না হলে গত ২৮ মে আল মাসুদ মিয়া নামে এক ভুক্তভোগি বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আরেকটি মামলা করেন। আদালতের বিচারক ৩০ মে উভয়পক্ষের শুনানী শেষে ১২ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ক্ষতিগ্রস্থরা বলেন, আমাদের জায়গার উপর দিয়ে অনুমোদন হয়নি এমন প্রকল্পের নামে রাস্তা নির্মাণ করেছেন চেয়ারম্যান। ওই জমিতে পুরনো বেশকিছু গাছপালা কর্তণও করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বার বার আপত্তি জানালেও কোন প্রতিকার পাইনি। পরে আদালতের দারস্ত হই।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফায়েকুজ্জামান বাবুল বলেন, জনস্বার্থে আমি রাস্তা নির্মাণ করেছি। এতে কোন অপরাধ করিনি। আদালতে মামলা আইন মেনেই চলবে। যেখানেই জবার দিবো।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার রেজাউল করিম বলেন, ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে তার সতত্যা পাওয়া গেছে। আদালতের কাছে সঠিক তথ্যই উপস্থাপন করা হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার ভুমি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যা পাওয়া গেছে সেটাই লিপিবদ্ধ করে আদালতে জমা দেয়া হবে।




