৭ই মার্চের ভাষণ নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রেরণার উৎস

৭ই মার্চের ভাষণ নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রেরণার উৎস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু বাঙালির সম্পদ নয়, সারা বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রেরণার উৎস।

৭ মার্চের ভাষণ মানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এই ভাষণের মাধ্যমেই সমগ্র বাঙালি জাতি হ্যামিলনের বাঁশির সুরের মতো উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি জামাত বিভিন্ন সময়ে প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করেছে, তাদের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গৃহীত মুক্তির সকল কর্মসূচী ও সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আজ শনিবার ৩০ অক্টোবর ২০২১ইং তারিখ সকাল ১১টায় এ-বøক অডিটোরিয়ামে ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান দিবস ৩০ অক্টোবর উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।

আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে তাঁর বক্তৃতা, ভাষণ, বিবৃতি জানতে ও অনুসরণ করতে হবে। বিএনপি জামাত বার বার ইতিহাসকে বিকৃত করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছে। তাই নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাসকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্র হবে, ধর্ম ভিত্তিক হবে না- যা আমাদেরকে স্মরণে রাখতে হবে।

মহতী এই আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক প্রমুখসহ সম্মানিত ডিনবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান।

আলোচনায় সভায় সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক সম্পদ। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এই ভাষণকে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ঐ বছর ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল’ রেজিস্ট্রারে তালিকা ভুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংস্থাটির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজার কমিটি (আইওসি) ঐদিন প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে তৎকালীন মহাপচিালক ইরিনা বোকোভ এ সংক্রান্ত ঘোষণাটি দেন। এই স্বীকৃতি শুধু বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি নয়, সমগ্র দেশের জন্য বড় স্বীকৃতি। বঙ্গবন্ধু এই ভাষণের মাধ্যমে প্রধানত স্বাধীনতার ঘোষণাই দেন। মাত্র ১৯ মিনিটের সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে তুলে দেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।