চিলমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন

এস, এম নাজমুল আলম, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) থেকেঃ চিলমারীতে শিশুদের মাঝে ভোট উৎসব। রয়েছে ভোটার, প্রার্থী, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং, পোলিং। বিদ্যালয়ের মাঠে সারিবদ্ধ লাইন। একে একে ভোট কক্ষে প্রবেশ করছে যাচাই বাচাই শেষে হাতে নিচ্ছে ব্যালট পেপার পছন্দেও প্রার্থীকে করছে ভোট প্রদান।

স্কুলে-ঘরে জাতীয় নির্বাচনের আদলে বসানো হয়েছে গোপন বুথ। ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে লিফলেট, পোস্টার, ক্যাম্পেইন সবই হয়েছে। কে হবে বিজয় তা নিয়েও রয়েছে প্রতিযোগীতা। দিন ব্যাপি ছিল ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দিপনা বিদ্যালয় গুলোতে। ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে প্রার্থীদের নামে নামে। সরেজমিন রমনা মডেল ২নং, শাখাহাতী ২নং, রানীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে নির্ধারিত সময়ে ভোটাররা দাঁড়িয়েছে লম্বা লাইনে। এভাবেই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে যারা ভোট দিতে দাঁড়িয়েছে তারা বিদ্যালয়েরই তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী।

এসব ক্ষুদে ভোটারদের ভোটেই নির্বাচিত হবে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সাত প্রতিনিধি। ক্ষুদে ভোটারদের ভোট গ্রহণের জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য আগে থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার সবই। রবিবার সারাদেশের মতো চিলমারী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন। এতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে সাতজন কাউন্সিলর। এ সাত কাউন্সিলরের নেতৃত্বেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পরবর্তীকালে তাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। রমনা মডেল ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনার ও প্রিজাইডিং অফিসার ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তার বলেন, সকাল থেকে ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছে।

পরে ভোট গণনার পর ঘোষণা করা হবে বিজয়ীদের নাম। একই স্কুলের ছাত্রী ইব্রাহীম, গালিব, মৌসহ একাধিক ছাত্রছাত্রী বলেন, বড়দের মতো তারাও নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে ভোট প্রদান করেছেন। এ প্রতিনিধিরাই স্কুলে তাদের সুবিধা অসুবিধার দেখভাল করবে। জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে তারা খুবই খুশি। রমনা মডেল ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া জানান, এই উদ্যোগ টি আসলে সত্যি অনেক আনন্দের শিশু বয়সে শিক্ষর্থীরা ভোট দেয়া, ভোট গ্রহনসহ নেতৃত্ব দেয়াও কলা কৌশল শিখছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা সৃষ্টি হবে। তাদের মাঝে নেতৃত্বের বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হবে। এতে শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।