সমাজ বদলের সংগ্রামী নাম ডা: মনীষা চক্রবর্তী

বিশেষ প্রতিবেদক প্রসেঞ্জিত ঠাকুরঃ  একজন পেশাদার বিপ্লবী ডা: মনীষা চক্রবর্তী। শোষিত মানুষের মুক্তির মাঝেই আনন্দ খুঁজে বেড়ান। এসেছেন সমাজ বদলের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করতে। এমবিবিএস পাস করে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় সহকারী সার্জনপদে নিয়োগ পেয়েও সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। শামিল হয়েছেন শ্রমজীবি মানুষের কাফেলায়। এখন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিষয়ক সম্পাদক।

বরিশাল জেলা বাসদের সদস্য সচিবের দায়িত্বও তাকে নিতে হয়। মেয়র পদে লড়ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে। অনেক আগেই মেডিকেলে পড়াবস্থায় সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে তার একাত্মতা। সে সময় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নিপীড়ন, গভীর রাতে ছাত্রী হলে সন্ত্রাসী হামলা, মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন মনীষা চক্রবর্তী। আন্দোলন করেন জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে অনিয়ম বন্ধ করে মেডিকেলে সর্বসাধারণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে।

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ তেল-গ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে না দিয়ে দেশের প্রয়োজনে উত্তোলন ও সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে তার অবদান অনস্বীকার্য। গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল, তনু হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে ছাত্র ধর্মঘটসহ ধারাবাহিক আন্দোলন, সারাদেশে সন্ত্রাস-দফলদারিত্ব-নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনেও ডা. মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্ব সবার নজর কাড়ে। পুকুর-খাল-নদী রক্ষা, মাদক-জুয়া-অশ্লিলতা-অপসংস্কৃতি বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বকারী ভূমিকা পালন করেন তিনি। বরিশালে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদ, ভোলার গ্যাস বরিশালে এনে গ্যাসভিত্তিক শিল্প কারখানা নির্মাণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দোকান কর্মচারী-হোটেল শ্রমিক-নির্মাণ শ্রমিক-নৌযান শ্রমিক-রিক্সা শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনও তিনি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখেন।

বরিশালের রসুলপুরে সুলভে বিদ্যুৎ সংযোগ, চর এলাকায় বস্তির সন্তানদের বিনা বেতনে শিক্ষাদান , পলাশপুর-স্টেডিয়াম-রসুলপুর বস্তিতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে সংগ্রামসহ রসুলপুর চরে বস্তি উচ্ছেদ ও সংখ্যলঘুদের জমি জোরপূর্বক দখলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন এই বাসদ নেতা। গত এপ্রিলে বরিশালে ব্যাটারিচালিত রিক্সা শ্রমিকদরে ভুখা মিছিল থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে রাশিয়ার সোচিতে ১৫৪টি দেশের ছাত্র-যুবকদের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক ছাত্র-যুব সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র এবং করণীয় তুলে ধরেন।

মেডিকেল থেকে পাশ করে ৩৪তম বিসিএসের সরকারি চাকুরী ছাড়লেও ডা. মনীষা ছাড়েননি চিকিৎসা সেবা। তাই, প্রখর রোদে শ্রমজীবী বা নগরবাসীর অধিকার আদায়ের মিছিলের পর বিশ্রামের পরিবর্তে তাকে দেয়া যায় হাসিমুখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিনামূল্যে মানুষের চিকিৎসা করতে। কখনও রসুলপুর বস্তিতে, কখনও পলাশপুরে, কখনও স্টেডিয়াম কলোনী বস্তিতে, কখনওবা বিসিক বা কাশীপুরে শ্রমিক এলাকায়। পার্টি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কোন মিটিং শেষেও কিছু রোগী দেখার পরই উঠতে হয় তাকে। কখনও কাজের ফাকে কোন অসহায় মানুষের চিকিৎসার খোজ নিতে রাত-বিরাতে ছুটে যেতে হয় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।