সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আন্তর্জাতিক দিবস আজ

সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আন্তর্জাতিক দিবস আজ
সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আন্তর্জাতিক দিবস

আজ ২১ আগস্ট সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আন্তর্জাতিক দিবস। সন্ত্রাসবাদের কারণে প্রাণ হারানো এবং হামলা থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের স্মরণ, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।

এ বছরের দিবসটির মূলভাব ‘স্মৃতির মাধ্যমে নিরাময়’। এই প্রতিপাদ্য স্মরণ করার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের শিকার ও বেঁচে ফেরা মানুষদের মানসিক ক্ষত নিরাময়, তাঁদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেয়।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সন্ত্রাসবাদের শিকার ও হামলা থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু তাঁদের সাহসিকতাকে সম্মান করার বিষয় নয়; একই সঙ্গে তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও বক্তব্যের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও সুযোগ।

তিনি বলেন, স্মরণ একটি সমাজের জন্য পুনরুদ্ধার ও নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। তবে কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে স্মরণ করা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ মহাসচিব সন্ত্রাসবাদের ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত গল্প ও অভিজ্ঞতার অপব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তাঁদের কষ্টের ঘটনাকে যেন আরও ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বিভাজন ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অনলাইনে ভুক্তভোগীদের গল্প ও সন্ত্রাসবাদের ঘটনা প্রচারের সময় মানবিক মর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

আরও জানুনঃ বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস আজ: প্রবীণদের সম্মান ও অধিকার রক্ষার আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, দায়িত্বশীলভাবে অতীতকে স্মরণ করা হলে সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষদের আরও মানসিক আঘাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যে বিভেদ, ঘৃণা ও ভয়ভিত্তিক আখ্যান ছড়িয়ে দিতে চায়, তা প্রতিহত করতেও সহায়তা করে।

সন্ত্রাসবাদ যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসকে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না দিয়ে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি এবং আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বার্তার শেষাংশে সন্ত্রাসবাদের শিকার ও বেঁচে ফেরা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তাঁদের প্রতি সমর্থন শুধু একটি নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। আজ এবং প্রতিদিন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে, যেখানে মানুষ সহিংসতা, ভয় ও সন্ত্রাসের হুমকি থেকে মুক্তভাবে বসবাস করতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস

সন্ত্রাসবাদ শুধু প্রাণহানি ঘটায় না; এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও। অনেক বেঁচে ফেরা মানুষ দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বহন করেন। তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের পুনর্বাসন, মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই দিবস সেই দায়িত্বের কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—সন্ত্রাসের শিকার মানুষদের কণ্ঠস্বর যেন হারিয়ে না যায় এবং তাঁদের স্মৃতি যেন ঘৃণা বা বিভেদের নয়, বরং শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক ঐক্যের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।