সারা বিশ্বের মত পাকিস্তানেও ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মারণ করোনা৷ সোমবার পর্যন্ত পাকিস্তানে ৭২৪ জনের শরীরে মিলেছেন COVID19, মারা গেছে ৫ জন। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা৷ তবুও বিভিন্নমহল থেকে আসা লকডাউন প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ইমরান৷
বিশ্বজুড়েই ক্রমেই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারনে আপাতত সব দেশ বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে৷ আর তাতেই বেজায় সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান৷ বাইরের দেশ থেকে জিনিসপত্র আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক দিক থেকে সমস্যা তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে৷
পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, এমনটা চলতে থাকলে প্রবল অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে পাকিস্থানে৷ এর ওপর দেশে লকডাউন জারি করলে সমস্যা চরম আকার ধারণ করবে৷ সারা দেশ প্রবল অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগবে এই আশঙ্কা করেই এখনই লকডাউন ঘোষণা করতে চাইছেন না পাক প্রধানমন্ত্রী৷
ইমরানের এই আশংকার সমালোচনায় সরব হয়েছেন একাংশ৷ দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলেও লকডাউন ঘোষণা না-করায় ইমরানকে দুষছেন সে দেশেরই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা৷
ওয়াকিবহালমহলের ব্যাখ্যা, সারা বিশ্ব যখন করোনার মোকাবিলায় লকডাউনকে অন্যতম অস্ত্র বলে মনে করছে, তখন বিষয়টিতে আমল দিতে নারাজ ইমরান৷ তাঁদের বক্তব্য, করোনার আক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন লকডাউনকে অন্যতম অস্ত্র বলে মনে করছে, তখন ইমরান ভাবছেন তার দেশের আর্থিক বিপর্যয় নিয়ে৷ দেশবাসীকে নিয়ে কোন চিন্তাই নেই ইমরান খানের৷
মারণ এই ভাইরাস ইতিমধ্যেই বিশ্বে ১৫ হাজের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে৷ ইতালিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷ ইতালি সরকার প্রথম দিকে করোনা ভাইরাসকে গুরুত্ব না-দেওয়ায় ভুগতে হচ্ছে৷ চিনের হুয়ান প্রদেশে প্রথম এই মারণ ভাইরাসের দেখা মিললেও ধীরে ধীরে এশিয়া এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে৷
ভারতেও এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে৷ সংক্রমণ রুখতে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে লক-ডাউন ঘোষণা করেছে৷ কোথাও কোথাও জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা৷ বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, শপিংমল, সিনেমা হল থিয়েটার হল, মিউজিয়াম, চিড়িয়াখানা৷ এমনকি বন্ধ রাখা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস৷ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রেল ও পরিবহণ ব্যবস্থা৷
সমালোচকরা বলছেন, ইতালিকে দেখেও যদি এমতাবস্থায় হুঁশিয়ার না হয় তাহলে চরম বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তা সামাল দেবেন কিভাবে পাক প্রধানমন্ত্রী।


