বিশেষ প্রতিবেদকঃ চলতি রমজান মাসে ঢাকা শহরের কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আজকে রোজার উনিশ দিন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলব আজ উনিশ দিনে ঢাকা মহানগরীতে কোনো ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে নাই। শুধুমাত্র একটি ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল উত্তরায় জসীমউদদীন সরণিতে। আমরা সেই ছিনতাইকারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছি। ছিনতাইকাজে ব্যবহার করা মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে, পুরো গ্যাংটাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
গত ১৯ দিনে (২৮ মে-১৫ জুন) ব্যাংক, গার্মেন্টস বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাতায়াত করেছেন কিন্তু কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান পুলিশ কমিশনার। এর কারণ হিসেবে দুই মাস আগে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সম্মিলিতভাবে ছিনতাই বন্ধ বা অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে মানুষকে রক্ষার পরিকল্পনা করার কথা জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির লোকজন মানুষকে মিষ্টি কথা বলে কিছু খাইয়ে দিয়ে অজ্ঞান করে সব কিছু লুট করে। তা থেকে সাবধান করার জন্য আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। সবার মধ্যে সচেতনতা বেড়ে যাচ্ছে। পুলিশের কর্মকাণ্ড দেখে অপরাধীরা গা ঢাকা দিয়েছে। ছিনতাই পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, চাঁদাবাজ এদের কোনো রেহাই নাই।’
মতবিনিময় সভা থেকে জানানো হয়, এবার ঈদে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী যাবেন ও ফিরে আসবেন। এসব যাত্রী যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই নিজেদের গন্তব্যে যেতে পারেন বা আসতে পারেন সেটা নিশ্চিত করাই এই মতবিনিময় সভার উদ্দেশ্য বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, যাত্রী টানাটানি করা হলে সেই সব বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো যাত্রীকে হয়রানি করা যাবে না। টিকেট কালোবাজারির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা শহরে নানারকম উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কাটা হয়েছে উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘দুইটা গাড়ি পার হতে পারে না। তাঁর মধ্যেও আমরা রাত-দিন কষ্ট করে যাচ্ছি, রোজাদার মানুষ যেন বাসায় ফিরে ইফতার করতে পারে তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন পুলিশ সদস্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে একটা খেজুর এবং এক গ্লাস পানি খেয়ে ইফতারি করে। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে ইফতার করি, যান চলাচলে সহায়তা করি যাতে মানুষ বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারে। তবে দু-একদিন ভারি বর্ষণের জন্য আমরা সেটা পারি নাই। কারণ ঢাকার অনেক স্থানে পানি জমে থাকে, তবুও আমাদের পুলিশের লোক জুতা খুলে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ডিউটি করে। আমি নিজেও কাল রাস্তায় ইফতার করেছি।’
এ ছাড়া ঢাকার আশপাশে যানজট কমাতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঠিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।




