মাদক বহনে নতুন কৌশল পাচারকারীদের, ধরাও পড়ছে

মাদক বহনে নতুন কৌশল পাচারকারীদের, ধরাও পড়ছে

গাড়ির ফুয়েল ট্যাংক থেকে সবজিভর্তি পিকআপ, কিছুই বাদ দিচ্ছে না মাদক কারবারিরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলালেও জব্দ হচ্ছে বড় বড় চালান।

চোরাকারবারিরা অভিনব সব কায়দায় রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক। প্রাইভেটকারের মবিলের চেম্বারে প্লাস্টিকের প্যাকেটে পুরে রাখা হচ্ছে ইয়াবা। সাইলেন্সার কেটে গুঁজে রাখা হচ্ছে গাঁজার প্যাকেট। কাঁচামালের সঙ্গেও ইদানীং রাজধানীতে আসছে মাদকের চালান। কাভার্ড ভ্যানের ভেতর আলাদা চেম্বারও বানিয়েছে অনেকে। যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় চালকের সামনে থাকা বিশেষ সুইচের মাধ্যমে।

গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরে বিশেষ কায়দায় রাখা গাঁজা উদ্ধার প্রতিটি চালান ডেলিভারিতে চালক ও হেলপার গড়পড়তায় ১৫-২০ হাজার টাকা করে পাচ্ছে বলেও জানা গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চালান আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ সব জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা। তল্লাশি এড়াতে এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারীরাও।

পুলিশ বলছে, যারা ধরা পড়ছে তারা মূলত বহনকারী। মূল ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাই মাদক আইন আরও কঠোর করার পরামর্শ পুলিশের।

করোনার এ সময় রাজধানীতে বেড়েছে গাঁজার সরবরাহ। পুলিশ ছাড়াও, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন উদ্ধার করছে গাঁজা ও ইয়াবা।

স্যান্ডেলের ভেতরে রাখা ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে বেশি বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। এরপরই আছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে একাধিক মাদকচক্র শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারী।

তিনি বলেন, চোরাকারবারিরা নিজেদের যতই ধুরন্ধর মনে করুক, গোয়েন্দারা কিন্তু ঠিকই তথ্য পাচ্ছে। অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারও করে যাচ্ছি। তারা কীভাবে, কার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সে সব তথ্যও পাচ্ছি আমরা।

 thenewse.com
thenewse.com

তরমুজ ও কুমড়ার ভেতরে রাখা ফিনসিডিল র‌্যাব ৩-এর সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি রাজধানীতে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা জব্দ হচ্ছে বেশি। গ্রেফতারও করা হচ্ছে অনেককে।

চাহিদার কারণেই এখন সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখ করে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মাদক থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে প্রথমত সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। মাদকের রুট প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে (২০২০) তার আগের বছরের চেয়ে অন্তত ২০ ভাগ বেশি মাদক উদ্ধার হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, অধিদফতরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশি মদ আমদানি এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে কম হচ্ছে।

অনেকে বাসায় বেকার বসে থাকায় মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আহসানুল জব্বার বলেন, করোনার এই সময়ে মানুষের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা একটু বেড়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।