ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা)।। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় গোটা বিশ্ব থমকে গেছে। প্রভাব ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ লকডাউন করা হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট ও পন্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। বলতে গেলে প্রায় সব কিছু বন্ধ। কর্মহীন হয়ে ঘর বন্ধী মানুষ। অর্থনীতির গতিশীলের চাকা থমকে গেছে। কাজ নেই, রোজগার নেই, অর্থ নেই। তব ক্ষুধা থেমে নেই। সে ছুটছে, খাবার চাই, খাবার। কি হবে তার? উচ্চবিত্তদের কোন অসুবিধা না হলেও নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা পড়ছে বিপাকে। মধ্যবিত্তরা টেনেটুনে দিন পার করছে। তারপর কি উপায় হবে সেই ভাবনা মাথায়।
পাইকগাছাসহ উপকুল এলাকায় মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে হতদরিদ্র মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে এসব লোক বেকার অবস্থায় সময় পার করছে। তবে হতদরিদ্র, শ্রমিক ও নিন্মবিত্ত মানুষরা কমবেশি সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন নিন্মবিত্ত মানুষের পাশে সহয়তা নিয়ে দাড়িয়েছে। তবে চরম অসুবিধার মধ্য থাকলেও মাধ্যবিত্তরা কাউকে কিছু বলতে পারছে না। এদের অনেকের ঘরে খাবার নেই, গচ্ছিত টাকা নেই, ইতিমধ্য ঘরের সঞ্চিত খাবারও শেষ হয় গেছে। এসব মানুষের দিন কাঠছে অর্ধাহারে- অনাহারে। তারা মুখফুটে কিছু বলতে পারছে না। যেমনটা পেটে ক্ষুধা চোখে লজ্জা।
শহরের শ্রমজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লেও গ্রামের শ্রমজীবিরা বিভিন্ন কাজ পাচ্চে ও তারা কাজও করছে। তাদের তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না, রাস্তায় ভ্যান-ইজিবাইকও চলছে রোজ তাদের কিছুনা কিছু আয় হচ্ছে। প্রতিদিনের খাবারও জোগাড় করতে পারছে। এর পাশাপাশি সরকার, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেওয়া ত্রাণ ও অনুদান পাচ্ছে। তবে মধ্যবিত্তরা চরম আর্থিক ও খাদ্য সংকটের মধ্য দিন পার কোরছে।
পাইকগাছার এক কসমেটিক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসা বন্ধ থাকায় দুই হাজার টাকা দোকান ভাড়া ও আড়াই হাজার টাকা ঘর ভাড়া দিতে পারেনি। তাছাড়া সঞ্চিত কোন অর্থ না থাকায় সামনের দিনগুলে কি ভাবে পার করবো সে ভাবনায় দিন পার করছি।
কপিলমুনি বাজারর এক বস্ত্র ব্যবসায়ী জানান, প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দোকান ভাড়া দিতে হয়। দিন ভালই চলছিলো, তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ব্যবসা বন্ধ থাকায় টানাটানির মধ্য দিন পার করতে হচ্ছে । সামনের দিন গুলো কি ভাবে চলবে ভেবে উঠতে পারছি না। সংসার চালাতে যেন যুদ্ধ করতে হচ্ছে । চক্ষু লজ্জায় কষ্টের কথাগুলো কাউকে বলতে পারছি না।
করোনার প্রভাবে সাভাবিক জীবন যাপন থমক গেছে। তবে সমাজের ধনীব্যক্তি, উচবিত্ত ও চাকুরীজীবিদের উপর এর কোন প্রভাবই পড়ছে না। তারা স্বাছন্দ্য জীবন যাপন করছে। নিন্মবিত্ত ও হতদরিদ্ররা সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রদত্ত ত্রাণ সহায়তা পাওয়ায় তারা কোন রমক দিন পার করছে। কিন্ত মধ্যবিত্তরা পড়েছে মহা বিপাকে। কারণ তাদের কাজ না করলে খাবার জোটে না। এমতাবস্থায় মধ্যবিত্তের অনেক মানুষ ঘরভাড়া ও দেকান ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। চলমান পরিস্থিতি সবশ্রেণির মানুষের সমস্যা হলেও সব থেকে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্তরা। মধ্যবিত্তদের নিয়ে সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে নিন্মবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত মানুষদের সরকারের প্রদত্ত সহায়তা দেয়ার দাবী তুলা হয়েছে।
মানুষ মানুষকে দুরে ঠেলে দিতে পারেনি। নিজের জীবন বিপন্ন করেই চিরকাল মানুষ আর্তের পাশে দাড়িয়েছে, সেবা করছে।
পাইকগাছা বাজারে হার্ডওয়্যারী ব্যবসায়ী বলেন, নিম্নবিত্তের লোকজন তো সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে, বেসরকারি সহায়তা পাচ্ছে, কিন্তু মধ্যবিত্তের কী হবে? তার ঘরে খাবার শেষ হয়ে আসছে। তারা এখন অল্প অল্প করে খাচ্ছেন। মধ্যবিত্তদের দুর্দশার কথা কেউ কেউ ফেসবুকেও তুলে ধরছেন। একজন লিখেছেন, সবাই আমরা ব্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের নিয়ে। মধ্যবিত্তদের খবর কেউ নেয়না।
খবর নিয়েন, মধ্যবিত্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে বাজার সদাই আছে নাকি মুখ চেপে না খেয়ে দিন পার করছে। পাইকগাছা এলাকায় লবণ পানির চিংড়ি চাষের উপর প্রায় ৮০% মানুষ প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। এখন মৌসুমের শুরুতে ঘেরে অধিকাংশ ঘের মালিক চিংড়ি পোনার অতিরুক্ত দাম ও সংকটের কারনে পোনা ছড়তে পারেনি। ঘের প্রস্তুত করে বসে আছে চিংড়ি চাষিরা। তার উপর করোনা আতঙ্ক! পুঁজি হারিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের। তাদের মত এমন অসহায় মধ্যবিত্তদের চাপা কান্না শুনবে কে?





