অযোধ্যার ভূমিতে দীপাবলি উপলক্ষে ৫১০০ প্রদীপ জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বেঁকে বসেছেন বাবরি মসজিদ একশন কমিটি। আর তাই ডিসেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত অযোধ্যা জেলায় জারি করা হল ১৪৪ ধারা। রাম মন্দির বাবরি মসজিদ নিয়ে ঘটে চলা হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে হওয়া ঝামেলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলাশাসক অনুজ ঝা এই রায় দিয়েছেন। আর সেখানকার জেলা প্রশাসন কে সতর্ক থাকার ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। সেই ঘটনার পরবর্তী সময়ে দাঙ্গাতে মারা যান প্রায় ২ হাজার জনেরও বেশী সাধারণ মানুষ। যা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলছে। এটি এমন এক ঘটনা যা বদলে দিয়েছিল ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে। এই মামলায় মধ্যস্থতা করার জন্য সুপ্রীম কোর্ট আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর সেই মত অনুযায়ী প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখনও চলেছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত জানিয়েছিলেন ওখানে মন্দির বানাতেই হবে আর সেদিন আর বেশীদিন দেরী নেই। এছাড়া আর্ট অফ লিভিং খ্যাত শ্রী রবিশঙ্কর মন্তব্য করেছিলেন, মুসলমানদের অধিকাংশই রাম মন্দিরের বিরুদ্ধে নন। যা নিয়ে পিএফআই (পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া) তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তবে আরএসএসের মুখ খোলা নিয়ে বোঝা গিয়েছিল এই বিষয় নিয়ে তারা আর কোন রকম দেরী চায় না। জোরকদমে তারা যে ময়দানে নামার জন্য প্রস্তুত তা বোঝা গিয়েছিল আগেই। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মন্তব্য করেছিলেন মন্দির তৈরির বিকল্প পথ নিয়ে। বিজেপির রাম মন্দির ইস্যু নিয়ে বিরোধীরাও সুর চড়িয়েছিলেন।
আগে ৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল ১৭ অক্টোবর এই মামলা সংক্রান্ত কাজ শেষ করা হবে। আর আদালতে এই কেস সংক্রান্ত সকল তর্ক-বিতর্কের জন্য ১৮ অক্টোবর অন্তিম সময় হিসেবে ধার্য করা হয়েছিল।
বিচারপতি রঞ্জন গগইয়ের অবসরের আগেই ১৮ অক্টোবরের মধ্যে এই কেস নিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা জানানো হয়েছিল। তার থেকে একটি দিন ও বাড়তি দেবে না বলে আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল। একান্ত প্রয়োজন হলে শনিবার শুনানি হবে বলেও জানানো হয়।





