বিরোধী নেতাদের ধরপাকড় শুরু, মার্চেই আগাম নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগাম নির্বাচন করার চিন্তা ভাবনা সরকারের মধ্যে বহু দিন ধরেই আছে। এর কারণ মূলত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অপ্রস্তুত রেখে একটা নির্বাচন দিয়ে জিতে আসা। আর এর মাধ্যমে ৫ জানুয়ারির অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা চলিত বর্তমান সরকারের অপবাদ ঘুচানো।

বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে পূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগকে তল্পি গুটাতে হবে তা শেখ হাসিনা ও তার দলের নীতিনির্ধারকরা জানেন। এবং এটা জানে ভারতও। ফলে আগের মতো একচেটিয়া ভারতীয় সমর্থন থাকলেও সামনের নির্বাচনে তা আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজে লাগতে নাও পারে। আবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমাদের সংশ্লিষ্টতা বেড়ে যাওয়ায় এখানে সামনের নির্বাচন পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে হবে তেমনটা আশা করছে না আওয়ামী লীগ।

সব মিলিয়ে নির্বাচনে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগের প্লান ‘এ’ হল, অপ্রস্তুত অবস্থায় নির্বাচন দেয়া। এবং এর সাথে যতটা পারা যায় বিরোধীদের ওপর ধরপাকড় চালানো। সেই ধরপাকড় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে জামাতের আমির-সেক্রেটারিসহ শীর্ষ ৯ নেতা ও ২০ দলীয় জোটের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার হয়েছে। ঢাকার উত্তরা থেকে সোমবার রাতে আটক করা হয় জামাত নেতাদের। অন্যদিকে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা কে এম নাজির উদ্দিন জিহাদের স্মৃতির স্মরণে রাজধানী দৈনিক বাংলা মোড়ে জিহাদ স্কয়ারে ফুল দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের পাঁচ নেতাকর্মী।

আজ মঙ্গলবার সকালে ওই পাঁচজনকে আটক করে মতিঝিল থানা পুলিশ। আটক নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন—জিহাদের ভাই কে এম সরফ উদ্দিন, ২০-দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনজুর হোসেন ঈসা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান আশিক, সহসাংগঠনিক আশরাফ ফারুকী হিরা ও তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জুয়েল ভূঁইয়া।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের প্রেসক্লাবের সামনে লেবার পার্টির সভা থেকে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ইরান ২০ দলীয় জোটের নেতা।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিন এই ধরপাকড় অব্যাহত থাকবে। এ মাসে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার আগেই কুমিল্লায় বাসে পেট্রোলবোমা ৮ জন নিহতের মামলায় গতকাল খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রাখা হয়েছে।

এদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সেক্রেটারি রাম মাধব ঢাকা সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের সাথে কাজ করবে না তা আগেই জানিয়ে দিয়েছে। তাহলে এখন রাম মাধব ঢাকা কী করতে এসেছেন? তার ঢাকায় আসার দিনেই জামাত নেতাদের ধরার ঘটনার বেশ তাৎপর্য আছে। আগাম নির্বাচনের গ্রাউন্ড তৈরি করতেই তিনি এই সফর করতে পারেন। আবার আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আসছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

নির্বাচন কমিশন সরকারের এজেন্ডা মতো এ মাসেই কথিত সংলাপ শেষ করবে। এটা শেষ করেই নির্বাচনের তফসিলের আকস্মিক ঘোষণা দেয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মার্চের দিকে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শেখ হাসিনা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।