ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের শাসক গোষ্ঠী হামাসের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করে কথা বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক ত্রাণসহায়তা পাঠানো নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বাইডেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি যে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের কাছে মানবিক ত্রাণসহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং এই সংঘাত যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ওই অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি।’
বাইডেন আরও বলেন, তিনি ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামাস যে ফিলিস্তিনের জনগণের ‘মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য লড়ছে না’, সে বিষয়টি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসকগোষ্ঠী হামাসের সদস্যরা গত শনিবার ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশটির ভূখণ্ডে ঢুকে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। তাদের হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে।
এদিকে গাজাকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে সেখানে খাবার, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এতে ২২ লাখ মানুষের গাজা উপত্যকায় ভয়ানক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণসহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো বলেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের জন্য মানবিক ত্রাণসহায়তা পাঠানোর বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ জন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি। শনিবার গাজায় রাতভর বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়া খান ইউনিসে স্থল অভিযানও চালিয়েছে তারা। জবাবে তেলআবিবের দিকে রকেট ছুড়েছে হামাস। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা আরও বিস্তৃত পরিসরে গাজায় অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৫ জনে। এদের মধ্যে শিশু রয়েছে অন্তত ৭০০ জন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৭১৪ ফিলিস্তিনি।




