রাজিব শর্মা/চট্টগ্রাম প্রতিবেদকঃ দলের কর্মসূচিতে যেসব নেতা আসেন না তাদের তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
শনিবার (০১ জুলাই) দলের এক কর্মসূচিতে মেয়র বলেন, অনেকে সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। অথচ দলের কর্মসূচিতে আসার সময় হয় না। এসব নেতাদের বিগত সময়েও অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু দলীয় কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ নেই।
‘যেসব নেতা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাব। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেন সেই সিদ্ধান্ত মেনে আমরা কাজ করবো। ’ বলেন মেয়র চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম জহুর আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।
নাছির নিস্ক্রিয় নেতাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও মান-অভিমান থাকতে পারে। সেটার দায় দলের নয়। এই দল সবার। তাহলে আমরা কেন শুধু রাস্তায় থাকব ? আমরা কেন শুধু রাস্তায় রোদে পুড়বো, পানিতে ভিজবো আর পুলিশের মার খাব। দলের কর্মকাণ্ডে না থাকলে আপনারা পদ নিয়েছেন কেন ? আপনারা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন।
যেসব মন্ত্রী-এমপি দলের কর্মকাণ্ডে আসেন না তাদের পদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সন্তান নঈমউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, নূরুল ইসলাম বিএসসি সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন, তিনি নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি দলের কর্মসূচিতে আসেন না। আফছারুল আমিন সাহেব সাবেক মন্ত্রী, এখন এমপি। নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিম অথচ তিনিও আসেন না।
‘এম এ লতিফ দুইবার এমপি হয়েছেন, তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য, তিনি আসেন না। দিদারুল আলম আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছেন। তাকে দলের কোন কর্মসূচিতে কখনও দেখিনি। সিডিএর চেয়ারম্যান ছালাম সাহেব আসেন না কেন ?’ বলেন নঈম উদ্দিন ক্ষুব্ধ এই নেতা বলেন, আমরা তো দলের কর্মী, সরকারের কেউ নয়। আপনারা সরকারি পদ-পদবিতে আছেন, আপনারা কেন আসেন না ?
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে যে ছয়টি আসন আছে, একজন এমপিও দলের তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা নন। তারা পরগাছা। তারা শুধু নিজেরটা প্রচার করে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করে না। এজন্য তাদের সঙ্গে তৃণমূলের কোন সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আজ হতাশ।
‘সামনে নির্বাচন। নেত্রী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কিন্তু তৃণমূলকে জাগিয়ে তুলতে না পারলে নির্বাচনে আমরা জিততে পারবো না। তৃণমূলকে জাগাতে হলে পরগাছাদের বিদায় করে সত্যিকারের ত্যাগী এবং আওয়ামী লীগের অন্তপ্রাণ নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। ’ বলেন সুজন তিনি বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এরপরও চালের দাম বাড়াচ্ছে কারা ? রমজানে ছোলা-চিনির দাম সিন্ডিকেট করে কারা বাড়িয়েছে ? এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে দলের কাদের সম্পর্ক আছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। সকালে দামপাড়ায় জহুর আহমদ চৌধুরীর কবরে পুষ্পস্তবক দেয়ার পর নগরীর আলমাস সিনেমা হলের পাশে গুলশান কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকায় সভায় আসেননি।
সভাপতিত্ব করেন নঈমউদ্দিন চৌধুরী। নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ ও এম এ রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান এবং সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র।



