পাওনাদারকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে খুন, দুদিন পর বাবার আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জ ঃ পাওনাদারকে ফাঁসাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিয়ালকোল ইউনিয়নে একব্যক্তি নিজের কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। শনিবার সিরাজগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ম্যাজিষ্ট্রেট শরিফুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দিতে নিহত কলেজ ছাত্রীর মা ও বড় বোন এ তথ্য দেন। এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জগতগাতী গ্রামের সাইদুর রহমান বাদলের মেয়ে সাথী খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর দুদিন পর সাথীর বাবা বাদল ট্রেনের নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।

সাথী হত্যার ঘটনার তার মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সাথী শিয়ালকোলের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম জানান, বাদল পেশায় আদম বেপারী ছিলেন। এলাকার ও আশপাশের গ্রামের
অনেককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ৮/১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ঋণগ্রস্ত সাইদুর রহমান বাদল পাওনারদের ফাঁসানোর জন্য দুই ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে নিজের মেয়েকে হত্যা করেছে।

বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাবে বুঝতে পেরে সেও আত্মহত্যা করে। সাথীর মা মনোয়ারা বেগম ও বড় বোন সুমির জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই তরিকুল বলেন, ঘটনার রাতে বাদলের দুই ভাগ্নে জিন্না ও জিল্লুর তাদের বাড়ি আসেন। রাত ৯টার দিকে তারা তিনজন বাড়িতে থাকাবস্থায় সাথীর সঙ্গে জরুরী আলোচনা আছে বলে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও বড় মেয়ে সুমিকে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেয় বাদল। মনোয়ারা ও সুমি পাশের বাড়ি থেকে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে সাথীর খোঁজ জানতে চাইলে বাদল
বাঁশঝাড়ে নিয়ে সাথীর লাশ দেখায়। ভয়ে প্রথম দিকে তারা এ কথা কাউকে না জানালেও দ্বিতীয় দিন মেয়ের দাফন ও জানাজা শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে বাদল মেয়েকে খুন করার কথা স্বীকার করে।

এর কিছুক্ষন পরেই বাড়ী থেকে বের হয়ে পার্শবর্তী কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ষ্টেশনের কাছে গিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে বাদল আত্বহত্যা করে। জবানবন্দি শেষে মনোয়ারা বেগম ও সুমিকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এসআই তরিকুল। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন জানান, প্রথম থেকেই ঘটনাটি পরিবারের লোক ঘটিয়েছিল বলে সন্দেহ হচ্ছিল। কিন্তু নিশ্চিত না হওয়ায় এবং বাবা হওয়ার কারণে বাদলকে শুরুতেই আইনের আওতায় আনা যায়নি। বাদলের দুই ভাগ্নে জিন্না ও জিল্লুরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।