বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাজ নয়। কাউকে নির্বাচনে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না ইসি। বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা।
আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অর্থাৎ টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ ছিল আজ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপ হবে। আমরা তাদের কথা শুনবো। তারাও আমাদের কথা শুনবেন। কে আসবে আর কে আসবে না এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ইস্যু থাকবে না।
নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা শপথের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করার সুযোগ নেই।
নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে এটি। নির্বাচন কমিশন যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলেই কেবল সেনা মোতায়েন করা হবে। কে সেনা চাইবে আর কে না চাইবে, তার ওপর নির্ভর হবে না। আমরা তখন দরকার মনে করলে সেনাবাহিনী আসবে এবং যদি দরকার মনে না করি সেনাবাহিনী আসবে না। সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।
ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা মনে করেন, ইসি যথেষ্ট শক্তিশালী। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করতেই পারবে। তবে নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় সুবিধা হলো এবার ভুয়া ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে না।
সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনেরও তাগিদ দেন তারা।
এছাড়া ‘না’ ভোট ব্যবস্থা না রাখা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দলগুলোকে নিবন্ধন না দেয়ার আহ্বান জানান বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
এর আগে বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসির সংলাপে অংশ নেন বিভিন্ন পত্রিকার ২৬ জন। এ সময় তারা সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ‘না’ ভোট প্রবর্তনসহ কয়েকটি বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।


