ঠাকুরবানী ঠাকুরের উত্তরসূরী দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রয়াত গৌরাপদ গোস্বামীর মৃত্যুর পর তার সহধর্মিণী ফালগুনী গোস্বামী মন্দিরের সেবায়েত হিসাবে তা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি তেতুল গাছ সর্ম্পকে বলনে, শোনছি অন্তত সাড়ে ৫শ বছর আগে ঠাকুর বানী নাথ (শিব বানী ঠাকুর) নামে এক ঠাকুর তার মা এর জন্য বাজার থেকে টক তেতুঁল নিয়ে আসেন। ঐ তেঁতল টুকু খেয়ে শেষ হয়ে গেলে সকালে মা আবারো তেতুঁল খেতে চাইলে ঠাকুর বানীকে বলনে তখন ঠাকুর বানী মাকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি তেতুল খেয়ে এর বীজ কোথায় রেখেছেন । মা তাকে বলেন, ঘরের র্পাশ্বে রাখছি ঐ কথা শুনে ঠাকুর বাণী তেতুঁল বীজের কাছে গিয়ে হাতের লোটা থেকে একটু পানি ছিটিয়ে দিলে সাথে সাথে বীজ থেকে গাছ জন্ম নেয়।
এলাকাবাসী জানান, সাধানত তেতুঁল গাছের তেতুঁল টক হবার কথা থাকলওে তা টক নয় অত্যান্ত সুস্বাদু ও মজাদার। যা একবার খেলে যেকেউরই বার বার খেতে ইচ্ছা হয় । অনেকে এ গাছের ততেুঁল খেয়ে মনোবাসনা পূরন হয়েছে বলেও লোকমুখে জানা যায়। প্রতি বছর ঐ গাছে ১৫/২০ মন তেতুঁল ধরে যা ভক্তবৃন্দরে মাঝে বিতরণ করা হয়। তেতুঁল গাছের আকার প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিশাল আকার ধারন করছে । হিন্দু র্ধমাবলম্বীদের মতে প্রতি সরস্বতী ও দূর্গা পূজায় শিব ঠাকুর বানী তেতুঁল গাছে আসনে।ঐ দুটি পূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন সারারাত জেগে র্কীতন করেন।
শতক বড়ইতলা গ্রামের সুবল দেব বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সাড়ে ৫শ বছরের পুরোনো রহস্যময় তেতুঁল গাছটি সর্ম্পকে শুনেছি একদিনের মধ্যে গাছ রোপন করে ঠাকুবাণী উনার মাকে তেতুঁল খাওয়ার জন্য দিয়েছিলেন ।এটা কোন রুপকথা নয় সর্ম্পূন সত্য ঘটনা । একই এলাকার নরপতি শীল বলেন, ঠাকুর বাবার হাতের লাগানো (ঠাকুর বানী) গাছের ফল (ততেুঁল) খেলে যে কোন রোগ কমে যায়। ঠাকুর বানী মন্দিরের সেবায়েত প্রয়াত গৌরাপদ গোস্বামীর স্ত্রী বর্তমান সেবায়েত ফাল্গুনী গোস্বামী বলেন, ঠাকুর বানীর অলৌকিক এ তেতুঁল গাছ দেখার জন্য প্রতদিনই অনেক লোকজন মন্দিরে আসেন । ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেকেই আসনে ঠাকুর বানী গাছের তেতুঁল খেতে । বাংলাদশের বিভিন্ন স্থান থেকেও অন্য ধর্মের লোকেরা ঠাকুর বানীর আশ্রমের তথ্য বিস্বাস করে গাছের তেতুঁল খেতে আসেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেল জানান, আমরা ছোট বেলা থেকেই এই অলৌকিক গাছটি এমন দেখে আসছি। আমাদের দাদা ও মুরব্বীদের মুখে শুনেছি তাদের জন্মের অনেক আগেই গাছটির জন্ম । কথিত আছে এই গাছ কাটার নিয়ত করে কেউ গাছের কাছে গেলে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত এসে মারা যায়। বর্তমানে গাছটির গোড়ায় অনেকে মানত করে রান্না করা খাবার খেয়ে যায় এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় মোমবাতি আগরবাতি ও ধোপ জ্বালিয়ে নিবেদন করা হয়। তাই এ গাছটির রহস্য নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষসহ আশপাশের উপজেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসহ উদ্দীপনা রয়েছে।


