শিক্ষীত যুবক জাফর উল্লাহ ফিরোজ। পড়াশুনার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন গ্রীনভ্যালী এগ্রোফার্ম। বেশির ভাগ সময় তিনি গ্রীনভ্যালী এগ্রোফার্মে টমেটো ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন। তার এই ফার্মে শুধু টমেটো নয় আছে হরেক রকম ফল ও সবজি।
জাফর উল্লাহ ফিরোজ কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের ষাটবাড়িয়া গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে তিনি বর্তমানে কালীগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ আড়পাড়াতে বসবাস করেন। শুধু জাফর উল্লাহ ফিরোজই নয়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন অনেক চাষী। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষীদের মধ্যে দিন দিন আগ্রহ বেড়েই চলেছে। টমেটোর ফলন এবং দাম দুটোই ভালো হওয়ায় তারা বেজায় খুশি। জাফর উল্লাহ ফিরোজের এই সাফল্য দেখে অন্য চাষিরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলি মাঠে টমেটো চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তিনি । ৫হাজার টাকায় লিজ নেওয়া ০.৫বিঘা জমিতে বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করে কাঙ্কিত মুনাফা পাচ্ছেন।
তিনি জানান, জমি প্রস্তুত, সার, ঔষুধ ও পরিচর্যা বাবদ তার ৮২ থেকে ৮৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত জুন মাসের ১৮ তারিখে তিনি বারি-৮ জাতের টমেটোর চারা রোপন করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৭৫হাজার টাকার টমেটো বাজারে বিক্রি করেছেন। বাজার দর হিসাবে ৭৫ থেকে ১শ ৫০টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বাজারে টমেটো বিক্রি করেছেন। গাছ লাগানোর ৫৫দিন পর থেকে তিনি টমেটো সংগ্রহ শুরু করেন। ০.৫বিঘা জমিতে তিনি ৩ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন বলে জানান। ৪/৫ মাস পর্যন্ত তিনি বাজারে টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। বর্তমান বাজার মূল্যও বেশ ভালো।
জাফর উল্লাহ ফিরোজ বলেন, ‘সব খরচ বাদে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা আয় হবে এবার।’ শুধু টমেটো নয় ড্রাগন ২.৫বিঘা, পেয়ারা ১বিঘা, কুল ২বিঘা, মরিচ ১বিঘা, লাউ ১বিঘা ও বীজ পাট ৭বিঘা চাষ করছেন তিনি। মোট ১৫ বিঘা জমিতে তিনি এসব ফল ও সবজির চাষ করেছেন। তিনি আরও জানান, মোট ৫০ বিঘা জমিতে তিনি বিভিন্ন জাতের ফল ও সবজি চাষ করবেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান , এই উপজেলার বারবাজার, কাষ্টভাঙ্গা, রাখালগাছী, মালিয়াট ইউনিয়নে এই বছর ২.৫ হেক্টর জমিতে গ্রীস্মকালীন টমেটোর চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করি। আমরা তাদের টেনিংএর ব্যবস্থাও করে থাকি।




