গ্রন্থাগার হল জ্ঞানের ভাণ্ডার। জ্ঞানার্জন, গবেষণা, চেতনা ও মূল্যবোধের বিকাশ, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে আলোকিত করে তোলা এবং পাঠ্যাভ্যাস নিশ্চিতকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদ্যাপন গ্রন্থাগার ব্যবহারে দেশের মানুষকে আরো উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি একটি জ্ঞানমনস্ক জাতি ও সমাজ গঠনে কাজ শুরু করেছিলেন। বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাহিত্য-সংস্কৃতির মূল্যবান উপাদান সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে তিনি আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গ্রন্থাগারের সেবাদান কার্যক্রমও উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে। জ্ঞানমনস্ক আলোকিত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত গ্রন্থাগারের প্রচার, প্রসার ও উন্নয়নে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমরা ইতোমধ্যে দেশের ৩৯টি জেলায় একতলা বিশিষ্ট সরকারি গণগ্রন্থাগার ভবন এবং ৬টি জেলায় নতুন ৩তলা ভবন নির্মাণ করেছি। এছাড়া, সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের ২ লাখ পুস্তকের ডাটাবেজ তৈরি, RFID সংযুক্তকরণ এবং একটি ডাটা সেন্টারও নির্মাণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে দেশের ১০০০টি সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার স্থাপন করেছি, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইসমূহ সংগ্রহে রাখা হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম বইসমূহ পড়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পাচ্ছে। আমাদের দেশের গ্রন্থাগারসমূহ তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থাগারসমূহের মতো উন্নত এবং সমৃদ্ধ হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলিকে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের ভবন নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতির পিতার পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জে ‘শেখ লুৎফর রহমান গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র’ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের মাধ্যমে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর বই নিয়ে প্রতিটি জেলার পাঠকের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে গেছে। গ্রন্থাগারের জনবলকে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধ গ্রন্থাগারটিকে একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন গ্রন্থাগার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। স্কুল পর্যায়ে লাইব্রেরি-ঘণ্টা চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।



