আগৈলঝাড়া(বরিশাল) সংবাদদাতাঃ জাতীয় কন্যা শিশু দিবসে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ষষ্ঠ শ্রেনী মাদ্রাসা পড়–য়া এক কন্যা শিশুর সাথে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ২৫ বছরের এক যুবকের। চেয়ারম্যান, মেম্বর ও লিগ্যাল এইড কর্মীরা পূর্ব থেকে বিয়ের কথা জানলেও বন্ধ হয়নি ওই বাল্য বিয়ে। অনুপস্থিত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ নির্বাহী কর্মকর্তারা। প্রতিকার করতে পারছেন না ওসি।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাগধা গ্রামে। “শিশু কন্যার বিয়ে বন্ধ করি, সমৃদ্ধ দেশ গড়ি।’’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যখন সারা দেশে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন হচ্ছে ঠিক তখন- পশ্চিম বাগধা গ্রামের দিন মজুর শাহ আলম সরদারের ষষ্ঠ শ্রেনি পড়–য়া মেয়ে ও বাগধা মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী সাদিয়ার সাথে উত্তর বাগধা গ্রামের মৃত আলমগীর মিয়ার ছেলে বাগধা বাজারের মুরগীর ব্যবসায়ি জুয়েল মিয়া (২৫) এর সাথে গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা মেয়ের বাড়িতে উভয় পরিবারের ঘনিষ্টজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
২নং ওয়ার্ড মেম্বর মো. মিন্টু মিয়া জানান, তার ওই বিয়েতে দাওয়াত ছিল। বাল্য বিয়ের কারনে তিনি সেখানে যান নি। তিনি বিয়ে বন্ধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তবে তিনি শরাহ পরিয়ে বিয়ের হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
বাগধা ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কর্মী শিখা রানী দাস জানান, তিনি পূর্ব থেকেই এই নির্ধারিত বাল্য বিয়ের কথা জানতেন। তবে তিনি বিয়ে বন্ধের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেন নি।
চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্রি বলেন, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। বিয়ের কথা আগে জেনে স্থানীয় হক চৌকিদার পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে বলেছেন। মেম্বরকেও বিয়ে বন্ধ করতে বলেছেন। তবে বিয়ে বন্ধ হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিপীকা রানী সেনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খোজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ষ্টেশনে নেই। বাড়িতে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিখ সালমন রয়েছেন ট্রেনিংয়ে। অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা এসি ল্যান্ড শতরূপা তালুকদারও ষ্ঠেশনে নেই।
এ ব্যাপারে ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, যখন তিনি খবর পেয়েছেন তখন বিয়ে হয়ে গেছে। তার মোবাইল কোর্ট দেয়ার এখতিয়ার না থাকায় তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। শুক্র ও শনিবার উপজেলায় প্রশাসন শূন্য থাকায় এ দু’দিনে বাল্য বিয়ে বেশী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।



