হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই অসংখ্যা ঘটছে। হাসপাতাল গুলোর লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হলেও তার কোনো প্রতিফলন নেই। আবার চট্টগ্রামের মা-মনি হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল ঘুরেও মিলেনি চিকিৎসা। চমেকে জরুরী বিভাগে নিয়ে যেতেই মৃত্যু বরণ করেন প্রীতি বিকাশ দত্ত।
গতকাল বুধবার রাতে চট্টগ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় সপরিবারে থাকতেন ৬২ বছর বয়সী প্রীতি বিকাশ দত্ত। বুধবার রাত সাড়ে আটটায় হঠাৎ তাঁর বুকে ব্যাথা উঠলে ছেলে অভিজিৎ দত্ত বাবাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মানবাধিকার কমিশনের ফ্রী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বের হন। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ছেলে অভিজিৎ। করোনা ভেবে কোন হাসপাতালেই ভর্তি করানো যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতেই মৃত্যুবরণ করেন ৬২ বছর বয়সী প্রীতি বিকাশ দত্ত।
অভিজিত দত্ত বলেন, করোনার অজুহাতে চিকিৎসা দেয়নি হাসপাতালগুলো। কিন্তু ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। হাসপাতালগুলোর এমন অপারগতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবাকে।
এদিকে, অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা দিতে মরিয়া হাসপাতালগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রোগীদের কাছ থেকে। হাতে পায়ে ধরেও মিলছে না চিকিৎসা। এমন অবস্থায় চট্টগ্রামের চিকিৎসা সেবা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর মো. আমিনুল হক বাবু বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও চুপ করে আছে। কিন্তু বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত কমিটির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখছি না। হাসপাতাল গুলোর লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হলেও তার কোনো প্রতিফলন নেই।


