ভারত প্রতিনিধিঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের দেশেরমোহন গ্রামটি মুসলিম প্রধান। সেখানে কেবলমাত্র একটি মাত্র হিন্দু পরিবার বাস করে।
২৮ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় ওই পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রামধনু রজকের (৮০) মৃত্যু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি জেনে যান গ্রামের অন্যান্যরা। তারপর গ্রামের সবার সম্মতিতে হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী তাকে সৎকারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় মুসলিমরা।
জানা যায়, মৃত্যুর পর রাতেই গ্রামবাসীরা খবর দেন রামধনু রজকের ছেলে ও মেয়েদের। এরপর সকালে তার এক ছেলে গ্রামে আসেন। বাকিরা অন্যান্য রাজ্যে অবস্থান করার কারণে সৎকারে উপস্থিত হতে পারেনি।
দেশেরমোহন গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফিরদৌস বলেন, এই গ্রামে মোট পরিবার ২৩০টি। এতোগুলো পরিবারের মধ্যে কেবল একটি পরিবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। সেই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ রামধনু রজক কয়েকদিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্তানরা দূরে থাকায় তার চিকিৎসার দায়িত্ব প্রতিবেশী মুসলিমরাই নিজেদের কাঁধে নেন। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার ফের অবনতি হলে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মুবারক জানান, দেশেরমোহন গ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুরো দেশের কাছে দৃষ্টান্ত। মৃত ব্যক্তি ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু হলেও আমাদের এই গ্রামেরই একজন সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন। গ্রামের মানুষ প্রমাণ করল, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। সে হিন্দু হোক, মুসলিম হোক বা অন্য যে ধর্মেরই হোক না কেন।




