করোনা শনাক্ত ৩৫০ টাকায় ১৫মিনিটে পন্থা আবিস্কারক বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার

করোনা শনাক্ত ৩৫০ টাকায় ১৫মিনিটে পন্থা আবিস্কারক বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। এই পদ্ধতিতে মাত্র ৩৫০ টাকায় ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত করা সম্ভব। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ বিভাগ।

ড. বিজন কুমার শীল ও তার দলের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ৩৫০ টাকায় ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত সম্ভব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করা যাবে করোনা সংক্রমণ হয়েছে কি না। এতে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মতো। সরকার যদি এর ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ না করে তাহলে আমরা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বাজারজাত করতে পারব।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড কোভিড-১৯ শনাক্তে একটি কিট তৈরির শেষ ধাপে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন একটি দল গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিট তৈরি ও উৎপাদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আর এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. বিজন কুমার শীল। তিনি ২০০৩ সালে সার্স পিওসি কিট তৈরি করা দলের সদস্য ছিলেন। করোনার পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় রিজেন্ট ও সরঞ্জাম প্রস্তুতের শেষ ধাপে রয়েছে দলটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুমতির জন্য এরই মধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে (ডিজিডিএ) আবেদন করেছে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড। কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে এক মাসের মধ্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড প্রস্তুত রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বিভিন্ন গবেষণাগারে এই কিট ২০০ টাকায় সরবরাহ করা যাবে এবং সাধারণ মানুষ পরীক্ষাটি ৩০০ টাকার মধ্যে করাতে পারবে।

গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেকের পক্ষে মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার বলেন, এই কিট উৎপাদনে কাজ করেছেন ড. বিজন কুমার শিল, ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রঈদ জমির উদ্দিন এবং ড. ফিরোজ আহমেদ।

ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার জানান, এই ধরনের কিট উৎপাদন করতে হাইটেক ল্যাব প্রয়োজন। ইতিমধ্যে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক একটি হাইটেক ল্যাব তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পেলেই আমরা প্রয়োজনীয় উপাদান আমদানি করব। সব মিলিয়ে উৎপাদন করতে আমাদের এক মাস সময়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ১০ হাজার ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এই কিট ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই ল্যাবটি তৃতীয় স্তরের বায়োসেফটি হতে হবে।

২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল তখন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। র‌্যাপিড ডট ব্লট’ পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা। পরে এটি চিন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবেলা করে। তারপর তিনি সিঙ্গাপুরেই গবেষণা করছিলেন ডেঙ্গুর ওপরে। গবেষণা চলাকালে তিনি দুই বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন। আমাদের এখানে যখন যোগ দিলেন তখন তিনি ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছিলেন।

ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার বলেন, আমরা এর অনুমোদনের জন্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে আবেদন করেছি। তারা এর গুরুত্বটাই বুঝতে পারছে না। সাতদিন আগেই আমাদের অনুমোদন দিয়ে দেয়া উচিত ছিল। আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে গেছে। তাদের সঙ্গে মিটিং করছে। আমরা অনুমোদন পেয়ে গেলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদনের জন্যে আগামী সপ্তাহে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।