ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিকে দেশের উন্নয়নের বাধা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এসব অনিয়ম খুব কঠোর হস্তে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বলেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এমপি।
২২-২৩ ফেব্রুয়ারি দুই দিনের কক্সবাজার সফর থেকে ফিরে এসে আজ সোমবার ঢাকায় মন্ত্রিপরিষদে সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘Longest Unbroken Sea beach- Cox’s Bazar’ খ্যাত জেলা কক্সবাজারের উন্নয়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং ফার্স্ট ট্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। এগুলো হছে – মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দোহাজারি-রামু-কক্সবাজার গুনদুম রেলপথ, গভীর সমুদ্র বন্দর ও এলএনজি টার্মিনাল।
অন্যান্য অনেকগুলো প্রকল্পের মধ্যে আছে বৈদ্যুতিক কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র নির্মাণ, সড়ক, ব্রিজ ও এপ্রোচ রোড নির্মাণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দপ্তর স্থাপন ইত্যাদি। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কক্সবাজারে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কাজও হচ্ছে।
এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যে কক্সবাজার জেলায় খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি বরাদ্দের উদ্দেশ্যে ৬২টি এল.এ কেসের মাধ্যমে প্রায় ১৫৫২৮ একর জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান – বাংলাদেশে কোন একক জেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যে অন্যতম বৃহত্তম ভূমি বরাদ্দ। সে দিক দিয়ে ভূমিমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কক্সবাজারে ভূমিমন্ত্রীর চারটি কর্মসূচীর দুটিতে, অর্থাৎ, ২৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাজস্ব সংক্রান্ত বিশেষ মাসিক সভায় এবং এর আগের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে কক্সবাজার জেলার হিল-ডাউন সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি ব্যবস্থাপনা, অধিগ্রহণ ও জরিপ বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলেন।
এ দুটি সভায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্যে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার ব্যাপারেও তিনি সবাইকে অবহিত করেন। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৮ ধারার নোটিশের পর ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করে দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের আবারও নির্দেশ দেন। এছাড়া, আগামী ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে নামজারির জন্যে কোন ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ না করার ব্যাপারটিও ভূমিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত রাজস্ব সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয় ২০১৮ সালের পর হতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থা স্বরূপ ০৮ জন সার্ভেয়ার, ০২ জন কানুনগো কে বদলী করা হয়েছে। এছাড়া মামলা জনিত কারণে ০১ জন সার্ভেয়ার গ্রেপ্তার হয়েছে ও ০২ জন পলাতক আছে।
এছাড়া, কক্সবাজারে ভূমিমন্ত্রীর আরও দুইটি কর্মসূচীর মধ্যে ছিল ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ‘২য় জাতীয় কমিউনিটি বেইজড স্কাউট ক্যাম্প’-এর মহা তাঁবু জলসা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয় এবং পরেরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়া।



