ঈদের দিনে কোলাকুলি (মুআনাকা) করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়। কোলাকুলি করা সুন্নাত। আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা হাসান (রা) নবী কারিম (স.) এর কাছে আসলেন, তিনি তখন তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং কোলাকুলি করলেন।
বিজ্ঞান বলছে, দিনে কম করে ৮ বার কোলাকুলি করলে শরীরে অনেক উপকার হয়। এক্ষেত্রে যে যে সুফলগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল : সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়, ক্লান্তি দূর হয়, যন্ত্রণা কমে যায়, মানসিক আবসাদ এবং নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজের প্রকোপ হ্রাস পায়, মন খুশি খুশি হয়ে যাবে, নার্ভাস সিস্টেমের ভারসাম্য ঠিক থাকে, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
ঈদে আরেকটি বিষয় নামাজ মাঠে আদায় করা। এই বিষয়ে রাজধানীর একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হযরত মোহাম্মদ (স.) যেভাবে নামাজ পড়েছেন, তার উম্মত হিসেবে আমরা সেটা অনুসরণ করি। মহানবী তাহাজ্জুদের নামাজ ঘরে একা পড়ছেন। অন্যদিকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতবদ্ধ হয়ে পড়েছেন মসজিদে।
অন্যদিকে, ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন উন্মুক্ত মাঠে। মাওলানা আব্দুর রহমান আরও বলেন, হজরত মোহাম্মদ (স.) তাঁর জীবনের শেষ দশ বছর ঈদের জামাতে নিজেই ইমামতি করেছেন। আর তার জীবনে একবার আবহাওয়াজনিত কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন বলে হাদিসে উঠে এসেছে। ফলে মহানবীর দেখানো পথই আমাদের জন্য অনুসরণীয়। তবে কোনও এলাকায় মাঠ না থাকলে মসজিদে ঈদের জামাত পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কমাতে এবার আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে কোলাকুলি পরিহার, ঈদের জামাত ঈদগাহে বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে নির্দেশনা জারি করলো ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উপসচিব মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।





