প্রচন্ড শীতে লোকসান জেনেও পুরোদোমে চলছে ইরি ধানের চাষ

আঃজলিল, শার্শা যশোর প্রতিনিধিঃ প্রচন্ড শীত ও আমনের লোকসান মাথায় নিয়ে যশোরের শার্শায় পুরোদোমে শুরু হয়েছে ইরি/বোরো ধানের চাষ। কৃষকেরা এখন জমি প্রস্তুত ও চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ।

শার্শার ১১ টি ইউনিয়নে ১৮০টি গ্রামেই ইরি/বোরো চাষ চলছে। সরজমিনে দেখাগেছে, পৌষ মাস শেষে মাঘের প্রথম সপ্তাহেও শীত পড়ছে। তবুও শার্শার কৃষকেরা থেমে নেই। আবহাওয়া অনুকুলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠু ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা সেই টেনশন থাকবে ধান ঘরে ওঠা না পর্যন্ত। দেখা গেছে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে পানি সেচ দেওয়া, জমি চষা, বাসুই দেওয়া এক কথায় জমি প্রস্তুত ও চারা রোপনের ব্যস্ততা।

শার্শা উপজেলার কৃষক খাজুরা গ্রামের আব্দুল্লাহ জানান,আমনের লোকসান মাথায় নিয়ে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে ইরি/বোরো ধান চাষ করছি। স্যালোর পানিতে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়। সবাই একসাথে জমি তৈরী করতে স্যালোর উপর কিছুটা চাপ পড়ছে। তিনি জানান সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে অর্ধ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হবে।একজন কৃষক জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিল। খরচ হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার টাকা। আমন ধনে দেড় বিঘাতে ধান পেয়েছে প্রায় ২০ মন। যার মুল্য পেয়েছে প্রতিমন সাড়ে ৫শ’ টাকা হিসেবে ২০ মন ধানের মুল্য পেয়েছে ১১ হাজার টাকা। বিচলী পেয়েছে ৩ হাজার টাকা।

যা খরচের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা লোকসান রয়েছে। তিনিি আরও জানান, ইরি/বোরো ধনে খরচ আরও বেশি। তার পরেও লোকসান মাথায় নিয়ে ধান চাষ করছি। কৃষক বাবলুর রহমান জানান, জমি চাষ ও রোপন, পানি সেচ এবং কাটা-মাড়াই সহ প্রায় ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি ফলন হয় ২০-২২ মন। বর্তমান বাজারে ধানের দাম সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকা করে। যাদের নিজস্ব জমি তাদের কিছু থাকে। কিন্তু যারা বর্গাচাষী তাদের কিছুই থাকেনা। এতে করে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়।সাধারন কৃষকদেও অভিযোগ সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনে তাহলে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।

অনেকের অভিযোগ লটারীরর নামে কৃষকদেও নামে সরকারী দলের নেতার কর্মিরা সরকারী গুদামে ধান দিচ্ছে। প্রকৃত চাষীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিরোধী মতের কোন কৃষক সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পাইনা।বলেও জানাগেছে। শার্শা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে শার্শা উপজেলায় এবার ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি/বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যা গত বছরের চেয়ে ৫শ হেক্টর জমি বেশি। তিনি জানান, এ বছর ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৫০, ব্রি -ধান ৬৩, ব্রি-ধান ৬৫, ব্রি- ধান ৬৭, ব্রি- ধান ৮১ সহ হাইব্রিড মিনিকেট সহ বিভিন্ন ধরনের ধান চাষ হচ্ছে।শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, চলতি বছরের বোরো মৌসুমে ৪শ বা তার বেশি কৃষককে প্রদর্শনী কর্মসূচীর আওতায় বিঘা প্রতি সার, বীজ সহায়তা প্রদান এবং কৃষক/ কৃষানীকে এনএডিবির আওতায় সার, বীজ বিতরণ সহ বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।