আসিয়ানভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী

আসিয়ানভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা: আসিয়ানভুক্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত রেনেসাঁ হোটেলে আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সংগঠন ‘আসিয়ান ঢাকা কমিটি’ এ সুধী সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। জল ও স্থলপথের যোগাযোগ বৃদ্ধি, নিবিড় অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সুদৃঢ় জনসম্পৃক্ততার ওপর ভর করে বাংলাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বন্ধন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আসিয়ানভুক্ত ১১টি রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া নির্বাচন করাও এই গভীর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

বাংলাদেশ ও আসিয়ানের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই জোটটির ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার আবেদন করেছে বলে জানান মন্ত্রী। খাতভিত্তিক এই সহযোগিতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটে ‘বাংলাদেশ-আসিয়ান কো-অপারেশন প্রজেক্ট অন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন এবং সংস্কৃতি খাতেও একাধিক যৌথ উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা অর্জনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসিয়ান মিশন প্রধানদের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিশ্বের অন্যতম সফল আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারলে উভয় পক্ষই বহুমাত্রিক সুবিধা ভোগ করবে।

অনুষ্ঠানে আসিয়ান ঢাকা কমিটির চেয়ার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান (Mohammad Shuhada Othman) এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেট (Neena Padilla Cinglet)-সহ জোটভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংবর্ধনায় অংশ নেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।