আরসিইপি ও দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চায় বাংলাদেশ

আরসিইপি ও দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চায় বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের সাথে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ওয়েলিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে এক উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক জোট আরসিইপি-তে অন্তর্ভুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও রূপরেখা তুলে ধরে বাংলাদেশ।

বৈঠকে উপস্থাপিত বাংলাদেশের ৩টি প্রধান প্রস্তাব:

আরসিইপি (RCEP) জোটে যোগদান: ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ’ জোটে সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীর জবাব ইতিমধ্যে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ বাজার ও শুল্ক কাঠামোতে আধুনিকায়নসহ অন্যান্য সংস্কার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিউজিল্যান্ডের নীতিগত সহযোগিতা এবং সংবেদনশীল পণ্য সুরক্ষায় ১৫-২০ বছরের পর্যায়ক্রমিক শুল্ক নমনীয়তার প্রস্তাব করা হয়।

এলডিসি উত্তরণে সময় সম্প্রসারণ (২০২৯ পর্যন্ত): বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, মূল্যস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হতে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৬ সালের বদলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ। এই আবেদনে নিউজিল্যান্ডের জোরালো কূটনৈতিক সমর্থন চাওয়া হয়।

দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহারে একটি পূর্ণাঙ্গ এফটিএ সম্পাদনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে একদিকে নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধ ও কৃষিপ্রযুক্তি পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত হবে।

প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ উইংয়ের কর্মকর্তা এবং ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ইশতিয়াক আহমেদ অংশ নেন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বৈঠক পরিচালনা করেন ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড এবং ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড।

ভবিষ্যৎ বাণিজ্য খাতকে জোরদার করতে বৈঠকে একটি ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ’ গঠন, প্রস্তাবিত এফটিএ ত্বরান্বিত করতে ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ এবং জাতিসংঘে দুই দেশের মিশনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সফর বিনিময়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ওয়েলিংটন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।