আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর ৭০০ সংবাদ কর্মী বিতারিত

শেখর রায়ঃ  ভারতের সর্ব বৃহৎ পত্রিকা গোষ্ঠী এবিপি বা আনন্দবাজার পত্রিকা লিমিটেডের অধীনে বিভিন্ন প্রকাশনা যেমন বাংলা আনন্দবাজার পত্রিকা, সানন্দা, দেশ ইংরাজি দি টেলিগ্রাফ,বেশ কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ইত্যাদির সাথে কর্মরত প্রায় ৭০০ সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের রাতারাতি বিনা নোটিশে কোন কারন না দেখিয়ে কর্মচ্যুতি ঘটিয়ে দিল মালিকপক্ষ। এই পত্রিকা গোষ্ঠীর প্রধান হিসাবে অভিক সরকারকে সরিয়ে দেবার পর ও তার এক ভাইপো অরুন সরকার দায়িত্ব নেবার পর বেতনভুক কর্মীদের উপর প্রথম আক্রমন নেমে আসে। অভিক বাবু শত চাপ সত্তেও কোনদিন পুরাতন কর্মীদেরকে কর্মহীন করার কথা মেনে নেননি।

কলকাতায় বিগত সিপিএম জামানায় জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক আক্রমনে  প্রায় মাস দুয়েক আনন্দবাজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিক বাবু কোন কর্মীদের আর্থিক কষ্ট দেননি। দেখা যেত লাল ঝাণ্ডা গেড়ে কমরেডরা ৬নং প্রফুল্ল সরকার ষ্ট্রীটের সামনে পত্রিকা হাউজের ফটক আটকে বসে আছে, কেউ ঢুকতে বেরোতে পারছে না। জনমত গঠনে প্রবল শক্তিশালী এই মুখপত্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আক্রমন কিছু কম হয় নি। সে কংগ্রেস হোক বা অধুনা বিজেপি – কে নেই এই আক্রমণকারীদের লিস্টে। কয়েক মাস আগে রাজ্য ক্ষমতাসীন মমতার দল এই পত্রিকার বাপ বাপান্ত করতে পিছপা হয়নি। পত্রিকা সারকুলেশনের উপর, সরকারি বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির সুযোগের উপর খড়গহস্ত হয়েছিল। কারন, সাধারন জনমতকে এই পত্রিকা প্রভাবিত করতে সক্ষম। যার বিরুদ্ধে যায় সেই পত্রিকা, সেই হাত ধুয়ে লেগে পড়ে পিছনে- এটাই মানুষ বরাবর দেখে আসছে। আবার ইদানিং এই কাগজের মমতাস্তুতি পাঠকদের চোখ কপালে তুলছে। পর্দার পিছনের রহস্য ক্রমশঃ উন্মোচিত হবে।

কিন্তু দুনিয়া টলে গেলেও এই পত্রিকা গোষ্ঠীর কর্মীদের মনবলে কোন শক্তি চির ধরাতে পারেনি। কারন, আনন্দবাজার চিরকাল একটা পরিবারের মত চলেছে। সাংবাদিক ও কর্মীরা দরকারে মালিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে, মালিক পক্ষ কর্মীদের বিপদে আপদে থেকেছে। কিন্তু আচমকা এই নতুন মালিকপক্ষ ৭০০ কর্মীদের রাতারাতি রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেবে, একথা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। এই একতরফা আক্রমণে যে শুধু ৭০০ পরিবারের জীবনে দুর্বিষহ দুঃখ দুর্দশা এল তাই শুধু নয়, ভারতের সমগ্র সংবাদ মাধ্যমের সাথে যুক্ত সাংবাদিক, সংবাদ কর্মীদের সামনে নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে চলে এল।

প্রশ্ন উঠেছে যে দেশের শ্রমিক আইন কি পত্রিকা মালিক গোষ্ঠীর জন্য কি প্রযোজ্য নয় ! একটা দোকান কর্মচারীকে কর্মচ্যুত করতে গেলেও সপ এন্ড এসটাব্লিসমেনট আইন অনুযায়ী তিন মাসের অগ্রিম নোটিশ ও তিন মাসের পুরা মাহিনা ও বকেয়া মিটিয়ে দিতে হয়। ছোট বড় কোন সরকারি কর্মীদের এভাবে কুকুর ছাগলের মত ধুর ছাই করে দূর করে তাড়িয়ে দেয়া যায় না যখন, সাংবাদিকরা কি তাদের চেয়েও নিম্নমানের মানুষ যে তাদের জন্য কোন অধিকার থাকবে না। তাদের জীবন ধারনের অস্তিত্ব টিকে থাকবে কিছু দুর্বিনীত মালিক ও তাদের তাবেদারদের খামখেয়ালিপনার উপর – বিচারের ভার মানুষের।

গত কয়েকদিন আগে কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে বসে দি টেলিগ্রাফ কাগজের বিশেষ সংবাদদাতা বিশ্বজিৎ রায় এক সাক্ষাতকারে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও শেষ জীবনের এই দুর্ভাগ্য প্রত্যক্ষ করার কথা জানালেন পিপলস অফ ইন্ডিয়ার এক সাংবাদিককে। তিনি জানালেন তার সহকর্মীদের বিপর্যয়ের কথা। কত কর্মীরা ফ্লাটের মাসিক কিস্তি দিতে পারবেন না, ফ্লাট ছেড়ে দিয়ে বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে প্রায় পথে নামতে হবে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা জানালেন যে পত্রিকা রিসেপসনে স্বনামধন্য সাংবাদিকদের পত্রিকার অফিসে ঢুকতে চেয়ে ভিজিটার হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে । ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে প্রেস কার্ড। এর চেয়ে অসম্মানকর আর কি হতে পারে একজন সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকের কাছে। বিষয়টি দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে এসেছে। তদন্ত শেষে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করার দিকে এগোচ্ছে মোদী সরকার।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।