আদালত কর্তৃক কৃষ্ণপুর স্কুলের মোকদ্দমায় রেসপনডেন্টগনের বিরুদ্ধে ৩দিনের কারণ দর্শানোর নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক (রংপুর): রংপুর জেলাধীন মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মোকদ্দমার (মিস আপিল ০৯/২০১৮) বিবাদী/রেসপনডেন্টগণের বিরুদ্ধে আজ রংপুর জেলা জজ আদালতের বিচারক জনাব এ,বি,এম নিজামুল হক ৩দিনের কারণ দর্শানের নোটিশ জারি করেন।

রংপুর জেলা জজ আদালতের মিস আপিল ০৯/২০১৮ আর্জির বর্ননামতে জানা যায় যে, ‘কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষ্ণপুর মৌজায় ২০০২ইং সালে স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর অর্গানাইজিং কমিটি বিদ্যালয় পরিচালনার নিমিত্তে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

অত:পর যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বনে নিয়োগ পরীক্ষা গৃহীত হয়। অত:পর বিগত ১০/১১/২০০২ইং তারিখে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অত্র মোকদ্দমার ২নং আপীল্যান্ট প্রতিমা রানী সরকার, ৩নং আপীল্যান্ট কনিকা রানী ও ৪নং আপীল্যান্ট রাখী রানী সরকার কে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। উহার প্রেক্ষিতে ১২/১১/২০০২ইং তারিখে ২-৪নং আপীল্যান্টগণ বরাবরে নিয়োগ পত্র প্রদত্ত হয়।

উক্ত নিয়োগ পত্র প্রাপ্ত হইয়া অত্র মোকদ্দমার ২-৪নং আপীল্যান্টগণ বিগত ২০/১১/২০০২ইং তারিখে নালিশী বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগদান করিয়া যথাযথ নিষ্ঠার সহিত অধ্যাবধি স্বীয় দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছেন।

প্রধাণ শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বনে নিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ১নং আপীল্যান্ট প্রতাপ চন্দ্র সরকারের নিয়োগ সম্পন্ন এবং ০১/০৯/২০০৭ইং তারিখে নালিশী বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদেত যোগদান করিয়া সুচারুরূপে অধ্যাবধি বিদ্যালয়টি পরিচালনা করিয়া আসিতেছেন।‘

উহার প্রেক্ষিতে অত্র মোকদ্দমার আপীল্যান্টগণ যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বনে সোনালী ব্যাংক মিঠাপুকুর শাখায় বিগত ০৭/০৩/২০১০ইং তারিখে ৫,০০০/- টাকা এবং ১০/০৩/২০১০ইং তারিখে ১০,০০০/- টাকা জমা প্রদান করে বিদ্যালয়টির জেনারেল ফান্ড ও রিজার্ভ ফান্ড চালু করেন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল্যায়নে বিদ্যালয়টি চালুর প্রাথমিক অনুমতি প্রদত্ত হয়।

ইতিমধ্যে অত্র মোকদ্দমার ১-৪নং রেসপনডেন্টগণ (১) আশীষ চন্দ্র সরকার, (২) মালতী রানী সরকার, (৩) ডিনা রানী সরকার, (৪) প্রতিভা রানী মহন্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল করিয়া ও কতিপয় ব্যক্তির সাথে যোগসাজসী নিয়োগপত্র করিয়া নিজেদেরকে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবী করেন এবং জাতীয় করনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা প্রদান করে। আপীল্যান্টগণ কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ প্রদান করলে তৎকালীন সময়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হয়।

এমতাবস্থায়, বিদ্যালয় এলাকার সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে আইন-আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দৃঢ় বিশ্বাসে সুবিচার প্রাপ্তির লক্ষে আপীল্যান্টগণ বিজ্ঞাপনী ডিক্রীর নিমিত্তে রংপুর জেলার বিজ্ঞ মিঠাপুকুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মূল অন্য ৬৪/২০১৫ নম্বর মোকদ্দমা আনায়ন করেন। মোকদ্দমাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং ধার্য্য তারিখে বিবাদীর স্বাক্ষী দিন রয়েছে।

মূল মোকদ্দমা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত বিবেচনাধীন থাকাকালেই অত্র মোকদ্দমার ২০নং রেসপনডেন্টপক্ষে ২৫ নং রেসপনডেন্ট উপসচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সাহেব বিগত ১৫/০৪/২০১৮ইং তারিখে ….২০১৫/৮৬ নং স্মারকে অফিস আদেশ মূলে অত্র মোকদ্দমার ১-৪নং রেসপনডেন্টের নামে নালিশী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে অনাকাঙ্কিত অস্থায়ী নিয়োগ প্রদানের আদেশ প্রদান করেন।
মিস আপিলের ৫নং পাতার বর্ণনামতে ‘মোকদ্দমার বিবাদমান বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হওয়ার পূর্বেই অত্র মোকদ্দমার ১-৪নং রেসপনডেন্টগণের নামে প্রদত্ত ১৫/০৪/২০১৮ইং তারিখের অফিস আদেশ বেআইনী, বেদাড়া, যোগসাজসী ও তঞ্চকী হইতেছে উল্লেখ্য।

এরূপ অবস্থায় আপীল্যান্টগণ বিদ্যমান বিষয়ে রংপুর জেলা জজ আদালতে উপর্যুক্ত কাগজপত্রাদি-তথ্য- প্রমানাদিসহ অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার জন্য মিস আপিল ০৯/২০১৮ দায়ের করেন। ফলে আজ শুনানীমতে আদালত মোকদ্দমার বিবাদী/রেসপনডেন্ট নং (১৯) বিভাগীয় (পরিচালক) উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, রংপুর বিভাগ, রংপুর, (২০)নং সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা ও (২১)নং মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মীরপুর-২, ঢাকা এর বিরুদ্ধে ৩দিনের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ প্রদান করেন।

বিদ্যালয়টি ও মোকদ্দমা সম্পর্কে মহাপরিচালক বরাবর রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সর্বশেষ প্রেরিত পত্রের (স্মারক নং-১৩৩৮) মন্তব্য তথ্যমতে জানা যায় যে, সকল শিক্ষক পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। এবং স্থানীয়ভাবে জানা যায় বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে দুই-ততোধিক বার শালিশ হয়েছে।

অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ তথা মোকদ্দমার আপীল্যান্টগণকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অত্র এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ, কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন সহ সুধিবৃন্দ সকলে বিজ্ঞ আদালতের মোকদ্দমার রায়ের প্রত্যাশায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ অনাকাঙ্কিতভাবে বিদ্যমান বিষয়ে মোকদ্দমা বিচারাধীন অবস্থায় বিজ্ঞ আদালতকে অমান্য করে অফিস আদেশ প্রকাশ হবে বিষয়টি বর্তমানে বিজ্ঞ আইনজীবিসহ বিভিন্ন মহলে আলোচিত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।