সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় শারদীয় দুর্গা পূজার প্রস্তুতি নিয়ে বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশী মন্ডপে পুজার আয়োজন চলছে আগৈলঝাড়ায় ১৬৬টি পূজা । দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে মন্ডপে মন্ডপে চলছে দেবী দূর্গা প্রতিমা নির্মাণের কাজ। গত বছরের চেয়ে এবছর দুটি পুজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়ে এ বছরও ১৬৬টি মন্ডপে পুজার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশী পুজা অনুষ্ঠিত হবে আগৈলঝাড়া উপজেলায়। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চলছে প্রতীমা নির্মাণের কাজ। দেবী দূর্গার সাথে কার্তিক, গনেশ, লক্ষিè, সরস্বতী প্রতিমা নির্মাণে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন পাল পাড়ার মৃৎ শিল্পীরা।
আগৈলঝাড়া উপজেলা কেন্দ্রীয় পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান এ বছর উপজেলায় মোট ১শ ৬৬টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পুজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রাজিহার ইউনিয়নে ৫০টি, বাকাল ইউনিয়নে ৪১টি, বাগধা ইউনিয়নে ২৫টি, গৈলা ইউনিয়নে ২৭টি ও রত্নপুর ইউনিয়নে ২৩টি পুজা মন্ডপসহ সর্বমোট ১৬৬টি মন্ডপে প্রতীমা নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে এখন চলছে দো-মাটির কাজ।
প্রতীমা তৈরীর মৃৎ শিল্পী উপজেলার পাল পাড়ার বাসিন্দা শিব শংকর পাল, সুদেব পাল, জয়দেব পাল, জয়দেব পালের ছেলে সঞ্জয় পালসহ মৃৎ শিল্পীরা জানিয়েছেন, এ বছরও তারা অন্য বছরের মতো প্রতীমার আকার ও আয়তন ঠিক রেখেই প্রতীমা নির্মান করছেন তারা। তবে এ বছর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দাম বাড়ায় প্রতীমা নির্মাণের খরচ একটু বেশী পরবে। প্রতীমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে জানিয়ে পুজার এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতীমার গায়ে রং তুলির আঁচড়ের কাজ শেষ করবেন বলে জানান তারা।
পঞ্জিকা মতে, ৮অক্টোবর রবিবার দেবী দূর্গার মর্তে আগমনী বার্তায় দেবীর বোধন পুজা। ২০অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে দেবীর দূর্গার নবপত্র কল্পারম্ভ, ওইদিন মন্ডপে মন্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাজনার শব্দ। এদিন থেকে ২৪অক্টোবর মঙ্গলবার দশমী বিহিত পুজা সমাপনান্তে দেবী বিসর্জণ ও দশহরার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে সম্পন্ন হবে পাঁচ দিন ব্যপি শারদীয় দূর্গা পুজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
থানা অফিসার ইন চার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, দূর্গা পুজা সনাতন ধম্বাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব হলেও অ-সাম্প্রদায়িক উপজেলা হিসেবে পরিচিত আগৈলঝাড়ায়য় সবার সম্প্রীতির বন্ধনে পুজা অনুষ্ঠিত হবার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ষষ্ঠী পুজা শুরু থেকে শুরু করে প্রতীমা বিসর্জন পর্যন্ত মন্ডপগুলোতে গুরুত্ব বিবেচনা করে তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও পুজা মন্ডপের জন্য নিজস্ব পরিচালনা কমিটি গঠন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরার আওতায় রেখে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা মোবাইল টিমে কাজ করবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন- পুজায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সে লক্ষে প্রসাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




