অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবী ঐক্য পরিষদের

বিশেষ প্রতিবেদক ডাঃ মনোরঞ্জন মজুমদারঃ  আপীল ট্রাইবুনালে নিস্পত্তির পর ভূমির প্রকৃত মালিকদের আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্ট রীট করার উছিলায় বছরের পর বছর ধরে তারা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি প্রদর্শন করে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ব্যতীত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে এভাবে বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

আজ আজ ২৭শে জুলাই রাজধানী ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন,  গত ৩রা এপ্রিল এ  ব্যাপারে ইতিবাচক আইনমন্ত্রণালয় থেকে জারির পর গত ২৫শে এপ্রিল ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ পরিপত্রের আইনীদিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডঃ ফারুক আহমদের পত্র আমলাতান্ত্রিক চক্রান্তের সর্বশেষ পদক্ষেপ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্তরে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন পার্লামেন্টে গৃহীত হলেও এবং ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক সংশোধনী এলেও আজ পর্যন্ত ভুক্তভোগী মালিকদের কেউ তাদের সম্পত্তি ফেরত পাইনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পার্বত্য ভূমিবিরোধ অবসানের মাধ্যমে পার্বত্য শান্তিচুক্তির যথার্থ বাস্তবায়নে যে অশুভ মহল বাধা সৃষ্টি করে চলেছে, সেই চক্রান্তকারী মহল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণে ভূমির মালিকদের আইনী অধিকার প্রতিষ্ঠায় একই পথ গ্রহণ করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারী হিসেবনুযায়ী ‘ক’ তফসীলভূক্ত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের আবেদন ট্রাইবুনালে ১লক্ষ ৬২ হাজার দায়ের হলেও এ পর্যন্ত ট্রাইবুনাল ও আপীল ট্রাইবুনাল নিস্পত্তি হয়েছে মাত্র ১০ হাজার। ট্রাইবুনাল আবেদন নিস্পত্তির ক্ষেত্রে এই অবাঞ্ছিত ‘ধীরগতি’ অব্যাহত থাকলে ভুক্তভোগী আবেদনকারীদের আবেদনের সুরাহা হতে আরো অর্ধশত বছর তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

সমাবেশ থেকে অতিসম্প্রতি মাননীয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের এক রীট আবেদনে(৮৯৩২/২০১১) প্রদত্ত রায় ও আদেশকে ‘যুগান্তকারী’ ও ঐতিহাসিক বলে অভিহিত বলে অভিহিত করা হয় এবং অনতিবিলম্বে এরই আলোকে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় এটর্ণী জেনারেল রাষ্ট্রের পক্ষে এ রীট আবেদন নিস্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মাননীয় সুপ্রীম কোর্টে লীভ টু আবেদন দায়ের সরকারের ভেতর সরকারের অবস্থানকে গোটা জাতির সামনে দৃশ্যমান করে, যা দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক।

সমাবেশ থেকে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত ধারাবাহিক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আগামী ৩০শে আগষ্ঠ বৃহস্পতিবার সারা দেশে একই দাবীতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ধর্ণা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।