তৃণমূলের রাজনীতিতে ২৯ বছরের পরীক্ষিত পথচলা, নির্বাসখোলায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার আলোচনায় আশরাফুজ্জামান সাগর

তৃণমূলের রাজনীতিতে ২৯ বছরের পরীক্ষিত পথচলা, নির্বাসখোলায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার আলোচনায় আশরাফুজ্জামান সাগর
রাজনীতিতে ২৯ বছরের পরীক্ষিত পথচলা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮নং নির্বাসখোলা ইউনিয়নের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা মো. আশরাফুজ্জামান সাগরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা, মামলা-হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার কারণে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

১৯৯৭ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন আশরাফুজ্জামান সাগর। এরপর প্রায় ২৯ বছরের পথচলায় বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা ও কারাভোগের মতো নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি বলে তার ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য, ২০০৭ সালে সহ-সভাপতি এবং ২০১১ সালে নির্বাসখোলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ঐতিহ্যবাহী নাভারন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০০৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ঝিকরগাছা হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হামলার পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মামলায় আসামি হওয়ার কথাও জানান আশরাফুজ্জামান সাগর।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে একটি, ২০১৬ সালে দুটি এবং ২০১৮ সালে একটি মোট চারটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এসব মামলাকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র ও আদালতের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন তিনি। শিওরদাহ বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ ও মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। বর্তমানে তিনি শিওরদাহ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় নির্বাসখোলা ইউনিয়নে দলীয় কার্যালয় পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ না থাকলেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। আশরাফুজ্জামান সাগরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় দলীয় নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে তার পাশে পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাসখোলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আশরাফুজ্জামান সাগরের নাম আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সাগর ভাইকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে দেখেছি। এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে তিনি এগিয়ে আসেন। তিনি চেয়ারম্যান হলে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে আমরা মনে করি।” তবে আশরাফুজ্জামান সাগর নিজে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

তিনি বলেন, “আমি বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। দল-মত নির্বিশেষে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বিগত সরকারের সময়ে মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। ব্যবসা ও চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। তারপরও দল ও এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন করার ইচ্ছে আছে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে আমার প্রাণের সংগঠন জেলা ও উপজেলা বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। দল চাইলে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তবে মানুষের সেবা করার জন্য শুধু চেয়ারম্যানের চেয়ারই প্রয়োজন এমনটা আমি মনে করি না। সৎ ইচ্ছা থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বা নির্বাচনী সক্ষমতা মূল্যায়নে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তার সাংগঠনিক ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সেই বিবেচনায় আশরাফুজ্জামান সাগরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ, দলীয় সমর্থন কিংবা নির্বাচনী ফলাফল এসব বিষয় এখনো ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত ও ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে নির্বাসখোলা ইউনিয়নের নেতৃত্বে কে আসছেন। দীর্ঘ ২৯ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ, প্রতিকূলতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে আশরাফুজ্জামান সাগর এখন স্থানীয় রাজনীতির আলোচনায়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একাংশের প্রত্যাশা, এবার তাকে জনপ্রতিনিধির ভূমিকায় দেখার সুযোগ তৈরি হোক। আর সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না তার উত্তর মিলবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের মাঠেই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।