দেশে ডলারের বিনিময়হার বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে আমদানীকৃত বিভিন্ন পণ্য। গত দুই মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বিদেশি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ, জুস, কসমেটিকস, বেবি ডায়াপারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিক্রিও কমে গেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বিদেশি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দাম আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার ল্যাকটোজেন-১ ব্র্যান্ডের এক হাজার ৮০০ গ্রামের গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৯০০ থেকে তিন হাজার টাকায়, যা দুই মাস আগে বিক্রি হয় দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। সৌদি আরবের আলমারাই ব্র্যান্ডের দুই হাজার ২৫০ গ্রামের গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ টাকায়, যা আগে ছিল দুই হাজার ২০০ টাকা। নান-১, ২ ও ৩ ব্র্যান্ডের ৮০০ গ্রামের গুঁড়া দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়, যা আগে বিক্রি হয় দুই হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকায়। নিডো এক হাজার ৮০০ গ্রামের গুঁড়া দুধ তিন হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে ছিল দুই হাজার ৯০০ থেকে তিন হাজার টাকা। সিমিল্যাক এক হাজার ৬০০ গ্রামের গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৫০০ টাকায়, যা আগে বিক্রি হয় তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার টাকায়।
বিদেশি ব্র্যান্ডের ৩০ পিসের বেবি ডায়াপারে প্যাকেট ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানীকৃত বেবি ফিডার, মাম পট ও বেবি কেরিয়ার ব্যাগ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। থাইল্যান্ড ও দুবাই থেকে আমদানীকৃত টিপকু ও মাসাফি ব্র্যান্ডের জুসের দামও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই মার্কেটের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের উচ্চমূল্যের কারণেই আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।
ডিএনসিসি মার্কেটের পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের বিক্রয়কর্মী আব্দুল কাদের শান্ত বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গুঁড়া দুধের দাম। গত দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ৬০০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৮০০ গ্রামের ল্যাকটোজেন-১ এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৯০০ থেকে তিন হাজার টাকায়, যা আগে ছিল দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা। আমদানীকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০ পিসের বেবি ডায়াপার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন দুই হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিপকু ব্র্যান্ডের এক লিটার জুস ৭০ টাকা বেড়ে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসাফি দুই লিটার জুস ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। নেসলে ২০০ গ্রাম কফি ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।
রামপুরা থেকে ডিএনসিসি মার্কেটে দুধ কিনতে এসেছিলেন নেজামুল হক ও সাজদিনা দম্পতি। তাঁরা বলেন, ‘দুই মাস আগে বিদেশি নিডো ব্র্যান্ডের এক হাজার ৮০০ গ্রাম ওজনের গুঁড়া দুধ কিনেছি দুই হাজার ৯০০ টাকায়, সেটি আজ ৫০০ টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার ৪০০ টাকা দাম চাচ্ছে। তাই বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখছি, কিছু কম পেলে নিয়ে নেব। কিছু করার নেই, নিজেরা না খেলেও তো বাচ্চাদের খাওয়াতে হবে। ’
ডিএনসিসি মার্কেটের প্রসাধনী ও কসমেটিক পণ্যের প্রতিষ্ঠান ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রসাধনী ও কসমেটিকসের প্রায় সব পণ্যেই ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমদানিকৃত পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা খুব শিগগির ডিএনসিসি মার্কেটে অভিযানে নামব। ’





