সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ বিকেলে বরিশাল জেলার চাখার ইউনিয়নের বড় চাউলাকাঠী (দ:) গ্রামে মাদ্রাসার জমি নিয়ে সংঘর্ষে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
তিনজনের মধ্যে একজন হলেন নাদের আলী সরদারের স্ত্রী সেতারা বেগম। তার মাথায় সাদেক সরদার নামক এক সন্ত্রাসী দাও দিয়ে ৪টি কোপ দেয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
অন্য দুজন হলেন শহীদ সরদার ও ফারুক সরদার তাদেরকেও মাথার ওপর কুপিয়েছে সামছুল হকের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা।
এদিকে আহত অবস্থায় বানারীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন কয়েকজন তারা হলেন : আকবর আলী সিকদার, শিউলী বেগম, রিনা বেগম ও কাদের সরদার তারাও চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসপাতালে।
সামছুল হক সরদারের ভাই ইয়াকুব আলী সরদারের উস্কানিমূলক কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ সংঘর্ষ বাধে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সংঘর্ষকালে ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাহআলম সরদার উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সে কোনো পক্ষকেই সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেননি। বরং দর্শকদের ভূমিকা পালন করেছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এমনকি সামছুল হক গংদের পক্ষ নিয়ে সে ইন্ধন যোগাচ্ছে বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
দক্ষিণ বড় চাউলাকাঠী নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার জমি নিয়ে সামছুল হক সরদার গংদের সাথে বিরোধ চলছে অনেকদিন আগ থেকেই। ওই জমির ওপর কোর্টের স্থগিতাদেশও ছিল। সুকৌশলে সামছুল হক গং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই বিরোধকৃত জমির উপর হঠাৎ করে ১০/১২ জন শ্রমিক নিয়ে ইমারত নির্মাণের চেষ্টা করে।
সামছুল হক সরদার গং আওয়ামী লীগের এক নেতাকে উপস্থিত রেখে তারই ইন্ধনে এই ইমারত নির্মাণ করার চেষ্টা করেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
সামছুল হক সরদার গং যাদের সংঘবদ্ধ করে এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালায় তারা হলেন সামছুল হক সরদার নিজে, ইয়াকুব সরদার, সাদেক সরদার, রাজিব সরদার, জহিরুল সরদার, শিপন সরদার, রিপন সরদার ও আলাউদ্দিন সরদার। এরা সব সামছুল হকের আত্মীয়-স্বজন ও তার লাঠিয়াল বাহিনী।
মাদ্রাসা কমিটির লোকজন ইমারত নির্মাণের উপর বরিশাল কোর্টে স্থগিতাদেশের আবেদন করলে কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করে এবং কোর্টের একজন পিয়ন স্থগিতাদেশের কাগজপত্র নিয়ে ওই এলাকায় আসে। পিয়নের সামনেই সামছুল হকের ভাই ইয়াকুব আলী সরদার নানা ধরনের উস্কানিমূলক কথা বললে এলাকাবাসীর সাথে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে জানা গেছে।





