আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রেসিডেন্সি ভবনে রাষ্ট্রপতি ইলির মেতার কাছে গতকাল অনাবাসী রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মদ পরিচয়পত্র পেশ করেন।
এসময় রাষ্ট্রদূত আলবেনিয়া সরকারের সার্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও আলবেনিয়ার মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুনক্ষেত্র চিহ্নিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কন্নোয়নে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশেষত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সূচকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আলবেনিয়ার রাষ্ট্রপতিকে দু’দেশের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন, পোশাকশিল্প ও জ্বালানিসহ অন্যান্য খাত সম্পর্কে অবহিত করেন। বাংলাদেশ সরকারের ব্যবসা ও বিনিয়োগ-বান্ধব নীতিমালা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা সম্পর্কে অবহিত করে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আলবেনিয়ার ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে গণহত্যার মুখে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা ৪ বছর ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার যে অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশ স্থাপন করেছে, সে বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে ফেরত নেয়ার বিষয়ে আলবেনিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ এবং ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আলবেনিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
আলবেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বৈশ্বিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে দু’দেশের সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কসোভোকে স্বীকৃতিদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসম্পর্ক জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি, রোহিঙ্গাদের প্রতি অমানবিক আচরনের বিরুদ্ধে আলবেনিয়া সবসময় সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে এবং জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরোমে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সক্রিয় সমর্থনের আশ্বাস দেন।




