সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও সম্পত্তি দখলে সন্ত্রাসীদের বিচারে ব্যর্থ সরকার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কথিত ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অযুহাতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘরে হামলা, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ, জোড় পূর্বক ধর্মান্তরকারীদের বিচার করতে ব্যর্থ সরকার।

অদ্য ১৭ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকারের ভূমিকা নিয়ে এমন মন্তব্য করেন।

হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সিনিয়র সহ সভাপতি মানিক চন্দ্র সরকার এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি তপন কুমার হাওলাদার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব উত্তম কুমার দাস, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডঃ তারক চন্দ্র রায়, মনি শঙ্কর মন্ডল, ডাঃ বিদ্যুৎ সূত্রধর, গোবিন্দ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতীভা বাকচী, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক রিপন দে, সহ আর্ন্তজাতিক সম্পাদক বিজন সানা, হিন্দু সাংস্কৃতিক মহাজোটের সভাপতি সাধন লাল দেবনাথ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুমন সরকার, সহ সম্পাদক সুশীল কুমার দাশ, ঢাকা দক্ষিনের সভাপতি মিঠু রঞ্জন দেব, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় ফালিয়া, হিন্দু হিন্দু যুব মহাজোট এর সভাপতি কিশোর কুমার বর্মন, প্রধান সমন্বয়কারী সন্তোষ মাহাতো, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত হালদার, দপ্তর সম্পাদক হরেকৃষ্ণ বারুরী, সুব্রত সাহা প্রমূখ।

বক্তাগণ বলেন ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অযুহাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসির নগর সহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের উপর আক্রমন, অগ্নিসংযোগ, লুঠপাট হয়েছে। পূনরায় রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটলো। সরকার মঠ মন্দির প্রতিমা ভাংচুর ও বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগকারীদেরকে চিহ্নিত ও বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

হিন্দু নির্যাতনের অপরাধীদের আজ পর্যন্ত কারো কোন শাস্তি হয় নাই। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করতে আরও উৎসাহিত হচ্ছে। যার কারনেই বারবার একেরপর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। বিচারবিভাগও যে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ করতে পারছে না। চীফ জাস্টিসকে যেভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

নিম্নোক্ত দাবীগুলো বাস্তবায়নের জোরালো দাবী জানান নেতৃবৃন্দ।

১। আগামী ১, ডিসেম্বরের ২০১৭ মধ্যে চট্টগ্রামের হাট হাজারী, কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগর ও রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হামলাকারী ও অগ্নিসংযোগকারীদের মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারের ঘোষনা দিতে হবে।

২। হিন্দু নির্যাতনের হাতিয়ার তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।

৩। জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ও নির্বাচন পরবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা ও নির্যাতন নিরোধ কল্পে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূণঃ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৪। একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ করতে হবে।

আগামী ১, ডিসেম্বর ২০১৭ এর মধ্যে সরকারকে দাবী বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে অন্যথায় হিন্দু সম্প্রদায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় মহাসমাবেশ পূর্বক পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।