× Banner
সর্বশেষ
চাকরি না খুঁজে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হোন – মির্জা ফখরুল দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ পর্যায়ে – বাণিজ্যমন্ত্রী আগামী বিশ্বকাপে বিজ্ঞাপন থেকে বড় মুনাফার লক্ষ্য সরকারের: তথ্যমন্ত্রী কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অ্যাগ্রো বিজনেসে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলেন পর্যটনমন্ত্রী বাংলাদেশকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের: প্রযুক্তিমন্ত্রী আবহাওয়ার সতর্কবার্তাবঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ২৭ জুলাই থেকে শুরু ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার

‘এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনাল’,যা আজকের ‘বাংলাদেশ বিমান’ নামকরন বঙ্গবন্ধু নিজে করেছেন

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি। সদ্য স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশে জন্ম নেয় ‘এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনাল’, যা আজকের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস‘বাংলাদেশ বিমান নামটি বঙ্গবন্ধু নিজে দিয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থার বহরে ছিল না একটিও উড়োজাহাজ। ‘ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দারের’ মতো একটি উড়োজাহাজের অপেক্ষায় ছিল সেদিনের এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনাল। ‘অচিন পাখি’ ‘সোনার তরী’ কেবল নয়, প্রায় অর্ধশতবর্ষী বিমানবহরে এখন উড়োজাহাজ রয়েছে ১৮টি। এর মধ্যে ১২টি আবার ব্যান্ড নিউ; মানে নতুন ঝকঝকে তকতকে সব উড়োজাহাজ। চার যুগে বিমানে চড়ে প্রায় পৌনে ছয় কোটি যাত্রী আকাশপথে উড়াল দিয়েছে।

বহরে আধুনিক উড়োজাহাজ এসেছে। কিন্তু বিমানের রুট কমেছে। তা ছাড়া ৪৮ বছরের লাভ লোকসানের হিসাবে লোকসানের পাল্লাটাই ভারী বিমানের। এ সময়ের মধ্যে ২০ অর্থবছরের লাভ করেছে বিমান আর লোকসান হয়েছে ২৮ অর্থবছরে।

৪ জানুয়ারি জন্ম নেওয়ার পর বিমানের আকাশে উড়াল দিতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও একটি মাস। ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকার তেজগাঁও পুরান বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামে রওনা হয় বিমানের ডাকোটা মডেলের প্রথম উড়োজাহাজ। পুরোনো জীর্ণ এই উড়োজাহাজের মালিক ছিলেন যোধপুরের মহারাজা। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে উপহার দেন এটি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ডাকোটা তেজগাঁও বিমানবন্দরে এয়ারফোর্স বেসে রাখা ছিল।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরেন। বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান মুক্তিযুদ্ধ–ফেরত বাঙালি দুই বৈমানিক ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বীর প্রতীক ও ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দীন আহমেদ বীর উত্তম (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের বৈমানিক ছিলেন)। এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনালের উড়োজাহাজ না থাকার কথা বঙ্গবন্ধুকে জানান তাঁরা। বঙ্গবন্ধু এ কথা শুনে ভারত থেকে দুটি এফ-২৭ উড়োজাহাজ আনার কথা তাঁদের বলেন। তখন আলমগীর সাত্তার ও সাহাবুদ্দীন আহমেদ জানান, তেজগাঁও বিমানবন্দরে ডাকোটা উড়োজাহাজের কথা। এটি পাওয়া গেলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালানো যাবে।

১ জানুয়ারি কথা হয় ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার ও ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে। এই দুজন বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পর একদিন আমরা দুজন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করি। ডাকোটার কথা বলতেই তিনি জেনারেল ওসমানীকে ফোন করেন। ওসমানী সাহেব তখন এ কে খন্দকারকে ফোন করেন। এর পরপরই বিমানবাহিনী থেকে ডাকোটা উড়োজাহাজটি বিমানকে হস্তান্তর করা হয়।’

এর আগেই এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনাল নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ বিমান করা হয়। এ কথা জানিয়ে ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান নামটি কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিজে দিয়েছেন। বিমানের লোগো করার দায়িত্ব বঙ্গবন্ধুই দিয়েছিলেন কামরুল হাসানকে। তিনি “বলাকা” লোগোর নকশা করেন। বঙ্গবন্ধু এটি পছন্দ করেন। আজকের বিমান তাই বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া।’

১৯৭২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ডাকোটা পেলেও বিমানের লোগো ‘বলাকা’ যুক্ত ছিল না। শুধু জাতীয় পতাকা যুক্ত করে পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায় বিমানের ডাকোটা ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম রওনা হয়। ওই ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন ২৫ জনের মতো। উদ্বোধনী ফ্লাইটটি পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন আবদুল খালেক, ক্যাপ্টেন আবদুল মুকিত, ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার। কেবিন ক্রু ছিলেন মিনা চৌধুরী ও সুজা খন্দকার (প্রয়াত অভিনেতা)।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..