আরিফ মোল্ল্যা,ঝিনাইদহ: মাদক নাম একটি অ-স্বস্তিকর নাম, বিরক্তিকরের নাম, কেউ কি চায় তার সন্তান বা প্রিয়জন মাদকে আটকে থাকুক। দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নতুন বাজার এলাকায় একটি ঘরে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবীরা নিরাপদ অস্থানা গড়ে তুলেছিল । যে ঘরে মাদক বেচা-কেনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবীদের এনে এই ঘরে নিরাপদে মাদক সেবন করানো হতো। এখানে মাদকের আসর বসিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করে হাতিয়ে নিতো লক্ষ লক্ষ টাকা।
সারা দেশে যখন মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স তখন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে এ অভিযান শুরু করে।বুধবার বেলা ১২ টার সময় প্যানেল মেয়র আশরাফের উদ্যোগে কালীগঞ্জের নতুন বাজারের (ব্রিকফিন্ড) রাজুর খাবারের হোটেলের পাশে একটি চাটায়ের বেড়ার গোল পাতার ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এই ঘরের পাশে খাবারের হোটেল মালিক রাজু জানায়, এই ঘরটিতে মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে গাজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা বাংলা মদ বেচাকেনা করার পাশাপাশি সেবন করাতো। এটা ছিল মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের মাদক সেবন করার নিরাপদ স্থান। ম্যাজিসিয়ান রাজু আরো জানায়, এই ঘরে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অবাধে তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো।
এই অভিযানে এলাকা থেকে মাদক মুক্ত হবে। এসব অবৈধ মাদকের দোকান উচ্ছেদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে স্থানীয় জনসাধারণ মাদক বিরোধী উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাটি মাদক মুক্ত করতে পৌর প্যানেল মেয়রকে এ অভিযান অব্যহত রাখার দাবী জানান এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জোর দাবি জানান।ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় অনেকেই এই মাদক বিরোধী উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।
এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের কারো অংশগ্রহন চোখে পড়েনি। এসময় প্যানেল মেয়র আড়পাড়ার (নদিপাড়ার) আরো ২টি মাদকের স্পটে যান এবং এলাকাবাসীদের বলেন এখানে যদি কোন ব্যাক্তি মাদক ব্যবসা বা সেবন করে তাহলে আমাকে জানাবেন। মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক কালীগঞ্জ শহরকে মাদক মুক্ত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এরই অংশ হিসাবে আজ নতুন বাজার এলাকায় একটি মাদকের আখড়া ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন স্থানে সাধারন মানুষকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়। তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধূ ব্যক্তি এই সমস্থ অবৈধ স্থাপনা গড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এদেরকেও আইনের আওতায় আনা উচিৎ। সাধারন মানুষকে সাথে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কালীগঞ্জ শহরের প্রতিটা মাদকের দোকানে হানা দেওয়া হবে। কালীগঞ্জে কাউকে মাদক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
মাদকে যে কি ক্ষতি হয় এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ জানে। তাই আজ এলাকার জনগনও আমার সাথে এই মাদকের দোকান উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছে। প্যানেল মেয়র ঘন্টাব্যপী এই অভিযান পরিচালনা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ন-আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মি, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ




