ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ  কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য হারুন-উর-রশিদ আসকারীর ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া ঝিনাইদহে সড়ক অবরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

আজ  শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষা‍ৎ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এসময় তারা উপাচার্যকে সমবেদনা জানান।

পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসেন আলো, আব্দুল ওদুদ, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সালাউদ্দিন আহমেদ সজল, সাদ্দাম হোসেন হলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগর ও ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত প্রমুখ।

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এসময় রাস্তার দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় ছাত্রলীগ নেতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বরদা এলাকায় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

উপাচার্যের ভাষ্য, গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে তিনি রওনা দেন। এসময় তার সঙ্গে একান্ত সহকারী (পিএস) রেজাউল করিম ছিলেন। মাগুরা হয়ে ঝিনাইদহ শহরে তিনি রেজাউলকে তার বাসায় নামিয়ে দেন। এরপর চালক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে রওনা হন। রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে বরদা এলাকায় মহাসড়কের ওপর তারা গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখেন। গাড়ির গতি কমালে কয়েকজন যুবক দ্রুত কাছে এসে গাড়ির জানালার কাচে আঘাত করতে থাকে। কাচ ভেঙে যায়।

হামলার বর্ণনা দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, চালকসহ তিনি দ্রুত গাড়ি থেকে বের হন। তিনজন যুবককে (শার্ট প্যান্ট পরা, মাথা ও গলায় মাফলার জড়ানো) রামদা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। আশপাশে আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা কতজন তা বুঝতে পারেননি। তাদের দেখে উপাচার্য দ্রুত জঙ্গলের মধ্যে দৌড় দেন। যুবকেরাও দৌড়ে জঙ্গল থেকে উপাচার্যকে ধরে আবার রাস্তায় নিয়ে আসেন। এরপর গালাগালি করে টাকা চান। মানিব্যাগ নিয়ে নেন। মুঠোফোনও তারা নিয়ে গেছেন। তবে কাছে থাকা ল্যাপটপ নেননি।

ঘটনার সময় সড়কে অন্য কোনো গাড়ি ছিল না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। কিছুক্ষণ পর রাস্তায় আরও কয়েকটি গাড়ি দেখে হামলাকারীরা দ্রুত চলে যায়। এসময় পাশের গ্রামের মানুষের সহায়তায় তিনি ও গাড়ির চালক ক্যাম্পাসে নিজস্ব বাসভবনে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমি স্যারের (উপাচার্য) সামনে আছি পরে কথা বলছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।