দেবাশীষ মুখার্জী, কূটনৈতিক প্রতিবেদক: দু’দিন আগে আগে চীনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, পূর্ব লাদাখের ভারত-চিন সীমান্ত থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু উপগ্রহ চিত্রে চীনের সামরিক উপস্থাপিত পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিল, দু’দেশই পূর্ব লাদাখের সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা সরানোর কাজ শুরু করেছিল; কিন্তু সেখান থেকে চীন এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করেনি। যদিও এই বিবৃতির পর চিনের তরফ থেকে কোনও মন্তব্য আসে নি।
এদিকে কিছুতেই আগ্রাসন থামাচ্ছে না চীন। ক্রমে ক্রমে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে এই সাম্রাজ্যবাদী দেশটি। ভুটানের ‘সাকতেং অভয়ারণ্য’-কে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে বসেছে চীন। ওই এলাকায় যাবতীয় বিনিয়োগেও আপত্তি তুলেছে তারা। তার ফলে নতুন করে চীনের তীব্র সমালোচনা করেছেন, মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেয়ো।
গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শুনানিতে মাইক পম্পেয়ো বলেন, ‘‘আসলে প্রভুত্ব বিস্তার এবং গোটা বিশ্বকে কুক্ষিগত করাই চীনের মূল লক্ষ্য। ১৯৮৯ সাল থেকে বিগত তিন দশক ধরেই নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করে চলছে চীন; বিশেষ করে শি চিনফিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে চীন অন্যের ভূমি গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’’
মাইক পম্পেয়ো আরো বলেন, ‘‘নিজেদের মতো করে গোটা বিশ্বে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে চীন। এখন আবার ভুটানের এলাকাকেও নিজেরে এলাকা বলে দাবি করছে। ইতোপূর্বে ভারতেও অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। এতেই বোঝা যায় যে, আসলে সকলের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে চীন। দেখছে, কেউ তাদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায় কি না, হেনস্থার প্রতিবাদ জানায় কি না। কিন্তু চীন যতই আগ্রাসী হয়ে উঠুক না কেন,যে কোন মূল্যে তাদের এই দূরভিসন্ধি প্রতিহত করতেই হবে। এ ব্যাপারে এখন ঢের বেশি আত্মবিশ্বাসী আমেরিকা। আমেরিকা জানে ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত গোটা বিশ্ব। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। সেই বিষয়টিগুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে আমেরিকাকে।’’
ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ১০৬টি চিনা অ্যাপস নিষিদ্ধ করে, ভারত বেজিংকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাইক পম্পেয়ো। তবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকির মুখে যে ভাবে একের পর এক দেশ রুখে দাঁড়াচ্ছে, তা মার্কিন কূটনীতিবিদদের দৌত্যের ফলেই সম্ভব হয়েছে বলে – দাবি করেন তিনি।


