তথাকথিত সুশীল সমাজ ও এনজিওকর্মীরা হিন্দু আইনে পরিবর্তন, তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা সুসংহত হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে অশান্তির বীজ বপন করছে। হিন্দু ধর্মীয় বিধিবিধান পরিবর্তন না করাসহ দুরভীসন্ধি ব্যক্তিদের শাস্তির দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
আজ ২২ আগষ্ট ২০২১ রবিবার সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোটার্র্স ইউনিটি নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ এসব দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট প্রতিভা বাকচী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, সাথে ছিলেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডঃ বিধান বিহারী গোস্বামী, বরিষ্ঠ সহসভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম মহাসচিব সুজন দে, অ্যাডঃ লাকী বাছার, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নরেশ চন্দ্র হালদার, প্রকাশনা সম্পাদক সাগরিকা মন্ডল, হিন্দু মহাজোট ঢাকা মহানগরের সভাপতি ডিকে সমির, হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, প্রণব মঠ ঢাকা’র অধ্যক্ষ স্বামী সঙ্গীতানন্দ মহারাজ, ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি কর্ণেল (অবঃ) নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, ইসকনের ফুড ফর লাইফ এর পরিচালক রূপানুগ গৌরদাস ব্রহ্মচারী, বৈদিক সমাজ বাংলাদেশ সভাপতি স্বামী চিদানন্দ সরস্বতী, বৈদিক কৃষ্টি সংরক্ষন প্রচেষ্টার প্রধান আচার্য রবীন্দ্রনাথ দেবনাথ, হিন্দু ল ইয়ার্স অর্গানাইজেশনের সভাপতি সিনিয়র এ্যাডভোকেট নারায়ন চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ সাধারণ সম্পাদক সাজন মিশ্র, হিন্দু মহিলা মহাজোটের সহ সভাপতি কাকলী নাগ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বিশ্বাস, বাংলাদেশ মন্দির মিশনের সভাপতি অনিল পাল, ভক্ত সংঘের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল সহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতিভা বাগচি।
আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দেখতে পাচ্ছি যে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা সুসংহত হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে অশান্তির বীজ বপন করছে। ১০ হাজার বছরের পুরনো এই হিন্দু পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস করে বাংলাদেশকে হিন্দু শুন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে একটি চক্র। তাদের দুরভীসন্ধি হাসিলে হিন্দু আইন সংস্কারের জন্য আইন কমিশনে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। যার নেতৃত্বে আছেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন আনাম ও তাঁর স্বামী মাহফুজ আনাম সিন্ডিকেট। তারা হিন্দু পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজন করে ব্যক্তি কেন্দ্রীক সম্পত্তি বন্টন, বিবাহ বিচ্ছেদ, হিন্দু বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ও শাস্তির বিধান, দত্তক, ভরন পোষনসহ বিভিন্ন বিষয়ে হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রীয় পবিত্র বিধি বিধান পরিবর্তনের চক্রান্ত করছে। আর এটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে “মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন আনাম ও বাঁচতে শেখার পরিচালক এঞ্জেলা গোমেজের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার করে হিন্দু বিধিবিধান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিদ্বেষমুলক তথ্য প্রচার করছে। সারাদেশের হিন্দু সমাজের মধ্যে একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে।
শুধু তাই নয় আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধেও হিন্দু সম্প্রদায়কে ক্ষেপিয়ে তোলার গোপন মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা। শাহীন আনাম সিন্ডিকেটের এই অপতৎপরতার কারণে সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায় মনে করছে এই সরকার আমাদের ধর্মীয় বিধিবিধান ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। ফলে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাসই শুধু নষ্ট হচ্ছে না, আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতিও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে। এইভাবে শাহীন আনামগং কৌশলে হিন্দু সম্প্রদায়কে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার নীল নকশা বাস্তবায়নের পায়তারা করছে। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও হিন্দু সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে শাহীন আনামের স্বামী মাহফুজ আনাম তার সম্পাদিত ইংরেজী পত্রিকা ডেইলি স্টারে কল্পকাহিনী ছাপিয়ে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, অতীতেও মাহফুজ আনাম ও শাহীন আনাম গংদের দেশ বিরোধী নানা চক্রান্তের কথা আপনাদের সকলের জানা। তারা কিভাবে এক-এগারোর সময়ে দেশকে রাজনীতি শুন্য করতে চেয়েছিল। রাজনীতিবীদদের চরিত্রহরণ করতে উঠে পড়ে লেগেছিল। দেশের গণতান্ত্রিত পরিবেশ তাদের পছন্দ নয়। তারা চায় দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠুক, বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই যেন তাদের ধ্যানজ্ঞান। কৌশলে তারা অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসার পথ উন্মুক্ত করার প্রয়াস চালান। ওই চক্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি কিছু ষড়যন্ত্রকারি যুক্ত হয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। দেশে অনেক ইস্যু থাকলেও হাজার বছর আগের মিমাংসিত ইস্যুকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। হিন্দু আইন সংস্কারের নামে বিভেদ সৃষ্টির কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু মানুষ এখন আর এতো বোকা নয়, অনেক সচেতন, তারা সহজেই চালাকি ধরে ফেলতে পারে। তারা দেশের বাইরে থেকে অর্থ এনে গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। চক্রটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। তারা আসলে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। চক্রটির এসব হীন তৎপরতায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ হিন্দু ধর্মালম্বীদের ২৩টি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সারাদেশের প্রায় পৌনে দুই কোটি হিন্দু সমাজ চরম উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করছি তাদের অপতৎপরতা সফল হলে হিন্দু সমাজের মধ্যে সংঘাত-গৃহবিবাদ অনিবার্য। অতীতে তাদের এসব অপচেষ্টা বন্ধে অনুরোধ জানালেও চক্রটির অপতৎপরতা থেমে নেই।
তথাকথিত সুশীল সমাজ ও এনজিওকর্মীরা হিন্দু আইনে তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তারা হিন্দু বিবাহের মূল ভিত্তি নষ্ট করতে তৎপর। শাহীন আনাম এর আগে ২০১৭-১৮ সালে তার এক কর্মচারীকে দিয়ে হিন্দু ধর্মে তালাক প্রথা চালু করার জন্য রিট দায়ের করেন। তখন কোর্ট বিষয়টি শুনানীযোগ্য নয় বলে খারিজ করে দেয়। হিন্দু বিবাহের একটি মহান উদ্দেশ্য আছে। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে পরব্রহ্মের ইচ্ছা হয়েছিল “একহং বহুস্যাং প্রজায়েয়’’ তাই পরম পুরুষ এবং পরা প্রকৃতির মঙ্গল মিলনে হলো বিশ্বের সৃষ্টি। মানব জীবনের মূলেও রয়েছে সেই দুটি সত্ত্বার মধুর সংযোগ। গোষ্ঠীগত জীবনের ক্ষুদ্রতম একক তথা ‘টহরঃ’ এর প্রশান্তির পরিনতি বিশ্বশান্তি। সেই ক্ষুদ্রতম একক হলো একটি নর এবং একটি নারীর সম্মিলিত, সংযত, সুসম ও সুস্থ দাম্পত্য জীবন। সামাজিক শান্তির পূর্বশর্তই হলো পারিবারিক প্রশান্তি। প্রতিটি নর-নারী আশা করে তাদের সামাজিক, পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হোক, সুখ শান্তিতে ভরে উঠুক; তার অনাগত সন্তানের জীবন নিরাপদ হোক, কল্যাণময় হোক। প্রতিটি নারী একদিকে যেমন তার জীবনের নিরাপত্তা চায়, অপর দিকে তার সারা জীবনের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয়, আর্থিক, পারিবারিক নিরাপত্তা চায়। এ চাওয়া শুধু নারীর জন্য নয়; সৃষ্টি প্রক্রিয়া সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্যই তা প্রয়োজন। শিশুর ভবিষ্যৎ মায়ের উপরই নির্ভর করে। আর সেকারণেই ত্রিকালদর্শী মুনি ঋষিগণ হাজার হাজার বছর আগেই নারীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন; হিন্দু বিবাহকে স্থায়ী রুপ দিয়েছিলেন। আর সে কারনেই হিন্দু বিবাহকে অবিচ্ছেদ্য ঘোষণা করেছেন। স্বামীকে স্ত্রীর সর্বাবস্থায় আজীবন ভরণ পোষনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোন কারনে এক সংগে থাকা নিরাপদ না হলে স্বামীর থেকে পৃথক বাস করেও আজীবন ভরন পোষন পাওয়ার অধিকার হিন্দু নারীর রয়েছে। স্বামীর মৃত্যূর পরও স্বামীর পরিবার ভরন পোষন দিতে বাধ্য থাকে।কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদের আইন করা হলে হিন্দু নারীর স্বামীর পরিবারে স্থায়ী পদ বিলুপ্ত হবে এবং স্বামীর
পরিবারের অস্থায়ী সদস্য পদ লাভের ফলে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। স্বামী যে কোন ছল ছুতায় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নারী ও শিশুকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন হবে বলে হিন্দু নারী সমাজ মনে করে।
হিন্দু বিবাহে বর ও বধুকে নানা বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়। এই বৈদিক মন্ত্র হল পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগে¦দ থেকে সংকলিত। বিবাহের মন্ত্রগুলি কোন পুরুষের রচিত নয়; মন্ত্রদ্রষ্টা নারী ঋষি সূর্যার নিকট আবিভূত হয়েছিল। আর বিয়ের সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি স্ত্রী আচার দিয়ে মহিমামন্ডিত। যে বিধান হাজার হাজার বছর ধরে এই নারী ঋষির তৈরী এই বিবাহ ব্যবস্থা অবিকৃতভাবে চলমান থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবার ব্যবস্থা উপহার দিয়ে চলেছে। এই মন্ত্র উচ্চারনের মধ্য দিয়ে দুটি হৃদয়, দুটি মন, দুটি শরীর একসূত্রে গ্রথিত হয়। হিন্দু নারী পুরুষের জীবনে আসে অর্ধাঙ্গীনি হিসাবে; তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। হিন্দু কুমারী যখন বিয়ের পিড়িতে বসে তখন রাজরাণীর মুকুট পড়ে বসে। ধান দুর্বা বরন ডালা দিয়ে আর্শিবাদিত হয়ে নানা স্ত্রী আচার নানা নারী বৈদিক মন্ত্র পাঠ করে স্বামীর বাড়ীতে প্রবেশ করে। স্বামীর পরিবার জ্ঞাতি গোষ্ঠি সমব্যবহারে তাকে সমাদরে নানা উপাচারে পূজা করে একজন কর্ত্রী হিসাবে তার আঁচলে চাবি বেঁধে দিয়ে গ্রহণ করে। এই জন্য যে আজ থেকে তিনি এই পরিবারের সম্রাজ্ঞী। হিন্দু বিধি বিধান নারীকে লক্ষী, সরস্বতী, জগধাত্রী, অন্নপূর্ণা, বিপদনাশিনী, দুর্গতিনাশিনী হিসাবে ভজনা করতে শেখায়। শুধুমাত্র দেহভোগের বস্তু ভাবতে শেখায় না। রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার ফলে দুষ্ট মানুষেরা বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে গোপনে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করে সহজ সরল নারীদের প্রতারিত করবে। হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য নষ্ট হবে; ধর্মীয় বিশ্বাস নষ্ট হবে। অতএব তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ যে নামেই হোক না কেন কোনটাই হিন্দু সমাজ মেনে নেবে না।
সামান্য কিছু অনৈতিক ও বিকৃত রুচির নর-নারীর জন্য কোটি কোটি জনগণকে চরম ঝুকির মধ্যে ফেলা ঠিক হবে না। গুটিকয়েক পাশ্চাত্য চিন্তা চেতনার অসুস্থ মস্তিষ্ক ও বিকৃত রুচির হৃদয়হীন নর নারীর কারনে লক্ষ লক্ষ নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না; সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও খুনি তৈরী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যায় না। বলা বাহুল্য জেন্ডার সমতা, নারী সচেতনতার নামে পরিবারের ভাঙ্গন সৃষ্টি করে মানসিকভাবে অসুস্থ চিন্তা চেতনার এনজিওরা। তথাকথিত প্রগতিশীলদের অনৈতিক চিন্তা চেতনার ফল হলÑ “পিতা মাতার আশ্রয়হীন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বর্তমানে ৭৪ লক্ষ, পথ শিশু ২০ লক্ষ, প্রতিদিন গড়ে ১০টি শিশু ধর্ষন হয়। ডাস্টবিনে পড়ে থাকা অনাকাঙ্খিত শিশু বছরে ২০৩টি। বর্তমানে শিশু যৌনকর্মীর সংখ্যা ২ লক্ষ, বাসাবাড়ীতে কাজ করে ২০ লক্ষ শিশু। ঢাকার লালবাগের জমিলা খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায় মোট ৬২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪১১ জন শিশুই পিতা মাতার ছাড়াছাড়ির কারনে অসহায় এতিম। শাহীন আনাম চক্র অনেক দিন ধরেই হিন্দু ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পায়তারা করছে।
শাহীন আনাম গং আর তথাকথিত গুটিকয়েক সুশীল সমাজ পৈত্রিক সম্পত্তিতে নারীর উত্তরাধিকার বিষয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে। মূলতঃ হিন্দু আইনে পিতা বা কোন পুরুষের সম্পত্তি নাই; সম্পত্তি পরিবারের। হিন্দু আইনে স্পষ্ট ভাবে তো আছেই, সংশয় নিরসনের জন্য উচ্চ আদালতের বহু ডিসিশন আছে। হিন্দু আইনে সকল সম্পত্তির একক মালিক যৌথ পরিবার। যৌথ এবং অবিভক্ত পরিবার হিন্দু সমাজের সাধারণ নীতি। সকল শ্রেনীর হিন্দু পরিবার সাধারণভাবে যৌথ। এটি শুধু সম্পত্তির ক্ষেত্রে নয়; বরং আহার এবং উপাসনার ক্ষেত্রেও। (১৯৬৪) ৬৮ সি.ডব্লিউ.এন. ৩৪৯,৩৭ সি.ডব্লিউ.এন. ১১৭৪, হিন্দু যৌথ পরিবার একজন আইন ভিত্তিক ব্যক্তি-১৯৩৪ এলাহাবাদ ৫৫৩। ১৯৬৪ মাদ্রাজ ৫৮, ১৯৭০ এস.সি. ১৪ আই.এন.ডি। একটি যৌথ পরিবারের গঠন জন্ম, দত্তক গ্রহণ, বিবাহ বা মৃত্যূর ফলে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রিভি কাউন্সিল বলেছেন, যৌথ পরিবারের সদস্যবর্গের মধ্যে যৌথ স্বার্থ বা একক দখল থাকে। তাদের একজনের মৃত্যূ হলে উত্তরজীবি হিসেবে অন্যেরা যৌথভাবে উহার উত্তরাধীকারী হবে-৯ এম.আই.এ। যৌথ পরিবারের কোন কন্যা বিবাহের পর যৌথ পরিবারের আইনগত সদস্যা হিসাবে তার মর্যাদা বর্তমান থাকে না।” নারী সর্বদাই পরিবারের সদস্যপদ পরিবর্তন করে। পিতার পরিবারের সদস্যপদ ত্যাগ করে গোত্রান্তরিত হয়ে স্বামীর পরিবারের সদস্য পদ লাভ করেন। হিন্দু আইনে পুরুষের কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধারনের অধিকার নেই। পিতার সম্পত্তি তো নয়ই, পুরুষ নিজে যা আয় করে, তা সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
পুরুষ পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে পিন্ড দান করে পরিবারের সকল সদস্যের, আশ্রিতজনদের ভরন পোষন এবং পরিবারের ঋন বা অন্য কোন দায় দায়িত্ব থাকলে তার দায় পুরুষ শপথপূর্বক গ্রহণ করেন মাত্র। সম্পত্তি বন্টন নয়; বরং পারিবারের সকল প্রকার দায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলেই আইনটির নাম দায়ভাগ। পারিবারিক সম্পত্তি থাক বা না থাক; পরিবারের কর্তা হিসাবে পরিবারের সকল সদস্যের ভরন পোষন শিক্ষা বিনোদন সহ সকল ধরনের মৌলিক ও অমৌলিক দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেন পুরুষ। পুরুষ যা আয় করে তা সাথে সাথেই পরিবারের সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হয়ে যায়। হিন্দু আইন কর্তা হিসাবে পুরুষকে তার স্ত্রী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন, নাতী-নাতনী, অসহায় পিশি ও অন্যান্য নিকটত্মীয়দের এবং আশ্রিত ও অভ্যাগতদের ভরন পোষন করতে বাধ্য করেছে। পরিবারের যাবতীয় ঋন, রাষ্ট্রীয় পাওনা, পরিবারের সদস্যদের ফৌজদারী অপরাধের দায় দায়িত্ব সর্বাবস্থায় পুরুষের উপর অর্পিত হয়েছে। হিন্দু আইনে পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার না থাকলেও “স্ত্রীধন” আকারে নারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধারনের অধিকার আছে। নারীর বিবাহের সময়ই পরিবারের কর্তা তাকে স্বালঙ্করা কন্যা দান করেন। বিবাহের সময়ই নগদ আকারে স্ত্রীধন হিসেবে সামর্থমত কন্যাকে স্বর্ণালঙ্কার বা নগদ সম্পত্তির একটি অংশ দিয়ে দেয়। যাতে ভবিষ্যতে নারীর স্বামীর বাড়ীতে কোন সমস্যা হলে স্ত্রীধন দিয়ে তার অসুবিধা কাটিয়ে উঠতে পারেন। পিতা, বা তার বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া স্ত্রীধন এবং নারী নিজে যা উপার্জন করে তা নারীর সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। হিন্দু আইনে নারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধারনের বিধানও অধিকার থাকলেও আইনে নারীর কোন দায় দায়িত্ব নাই। নারী তার পিতা, মাতা, স্বামী, পুত্র, কন্যা, শশুর, শাশুরী, ননদ বা কোন আত্মীয়ের বা আশ্রিতের ভরন পোষন করতে বাধ্য নয়; এমনকি হিন্দু নারী কোটি টাকার মালিক হলেও অন্য কারও তো নয়ই নিজের ভরন পোষন করতেও বাধ্য নয়। পরিবারের একান্ত দৈন্য অবস্থাতেও হিন্দু নারী তার “স্ত্রী ধন” পরিবারের প্রয়োজনে ব্যায় করতে বাধ্য নয়। নারী বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত পিতৃ পরিবারের সদস্য থাকে। বিবাহের সংগে সংগেই স্বামীর পরিবারের স্থায়ী সদস্যপদ প্রাপ্ত হয়। স্বামীর পরিবার তার যাবতীয় চাহিদা তার পিতৃপরিবারের মর্যাদা অনুযায়ী ভরন পোষন দিতে বাধ্য থাকেন। এছাড়াও নারী তার স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিজ দখলে রাখতে পারেন। আইনগত প্রয়োজনে সম্পূর্ণ সম্পত্তি হস্তান্তরও করতে পারেন। অবিবাহিতা কন্যা এক পুত্রের সমান এবং বিধবার সম্পত্তি বন্টন করতে চাইলে সেখানেও বিধবা এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পায়। অতএব পৈত্রিক সম্পত্তি বিষয়েও কোন বৈষম্য নাই। নারী পিতার সম্পত্তি দাবী করলে তার ননদও তার স্বামী সম্পত্তি টানাটানি করবে। ফলাফল বানরের পিঠা ভাগাভাগি। উভয় পরিবারই কলহ, বিবাদ বিসম্বাদ, মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে দরিদ্র হয়ে পড়বে।
চক্রটি কথায় কথায় ভারতে হিন্দু আইন সংস্কারের তথ্য তুলে ধরে। কিন্তু ভারতে আইন সংস্কারের ফলে তার বিরুপ প্রতিক্রয়া কি হয়েছে তা তুলে ধরে না। ভারতে শাস্ত্রীয় দাম্পত্য বন্ধন শিথিলের ফলাফল আজ কোটি কোটি নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন। হিন্দু উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন করার ফলে আজ লক্ষ লক্ষ নারী পরিবারচ্যুত হয়ে রেল লাইনের ধারে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বিপন্ন নারী জীবন বাঁচাতে এখন পতিতালয়ে। মাদক, ব্যাভিচারে ভাসছে ভারত, বাড়ছে এইডস্, কলিকাতা এখন এশিয়ার বৃহত্তম পতিতালয়। ভারতে বিভিন্ন আদালতে লক্ষ লক্ষ তালাকের মামলা। একমাত্র কোলকাতা হাইকোর্টে পারিবারিক আপীলই হয় বছরে ১০ হাজারের উপর। লক্ষ লক্ষ মহিলা আশ্রয়হীন। সরকার যোজনা কমিশনের মাধ্যমে এদের বাড়ী করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এর পর আছে কন্যা ভ্রুন হত্যার মহোৎসব। ব্যাপকভাবে কন্যা ভ্রুন হত্যায় বিভিন্ন রাজ্য কন্যা শিশুর জন্য ১,০০,০০০/- টাকা করে ভর্তুকী দিচ্ছে। ফলাফল যে বোঝা বহন করত পরিবার; তা এখন রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এখন সরকারকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রেডিও টেলিভিশন পত্র পত্রিকায় নানান যুক্তি তুলে ধরে ডিভোর্স না দিতে প্রচারনা চালাচ্ছে। কিন্তু কোন কাজে আসছে না। একবার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেলে আর তা জোড়া দেওয়া যায় না।
হাজার বছর ধরে নির্যাতন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ১০০% হিন্দু থেকে বর্তমানে ১০% এ নিয়ে আসা, ১৭% সংখ্যালঘু ভোটারের হিসাবে পার্লামেন্ট কমপক্ষে ৫৮ জন হিন্দু সদস্য না থাকা, স্বাধীন দেশেও তারা আইনতঃ
শত্রু, চাকুরী ক্ষেত্রে বৈষম্য, মঠ মন্দির বেদখল, দেবতাদের মন্দির থেকে উচ্ছেদ করে জাদুঘরে প্রেরণ। এসব মিলিয়ে হিন্দু অসন্তোষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তার কারন হিন্দু শিশু সহিষ্ণু হয়ে বেড়ে উঠে।
নারীদের যত সমস্যা তৈরী করেছে এই নারীবাদীরাই। এরাই নারীদের পরিবার থেকে নানাভাবে প্ররোচনা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে তাদের জীবন ঝুকিপূর্ণ করে তুলছে। আজ পত্রিকার পাতা খুললে দেখতে পাই নারী সন্ত্রাসী, নারী চাঁদাবাজ, নারী চোর, নারী চোরাচালানকারী। যা এক দশক আগেও ছিল না। পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে সকল অপকর্মের সাথে নারী যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে। সে সব কিছুর মূলে পারিবারিক ভাঙ্গন যা এনজিওদের দীর্ঘদিনের প্ররোচনায় আজ মহামারী রুপে সমাজে বিস্তার লাভ করছে।
বিবাহ যদি বৈধভাবে না হয়, স্বামী যদি দুশ্চরিত্র হয় অথবা বহুদিন বিদেশে থাকে, রাজদ্রোহী হয় বা স্ত্রীর পক্ষে বিপদজনক হয় কিংবা জাতিচ্যুত হয় বা পুরুষত্বহীন হয় তো স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করতে পারে। এ বিধান যেমন শাস্ত্রে আছে; আইনেও আছে। সিভিল কোর্টে গিয়ে সেপারেশানের মামলা করে অভিযোগ প্রমান করে তা করতে হয়। এর জন্য নূতন কোন আইন দরকার নেই।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশর এর পরিচালক শাহীন আনাম এবং বাঁচতে শেখা”র পরিচালক এঞ্জেলা গোমেজ এর সমাজ, সম্প্রদায় ও ধর্মবিরোধী কর্মকান্ড বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। অন্যথায় যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য হিন্দু সমাজ দায়ী থাকবে না। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের কোন ধরণের পরিবর্তন হিন্দু সমাজ সহ্য করবে না।
হিন্দু ধর্মীয় বিধি বিধান রক্ষা করতে হিন্দু সমাজ সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং হিন্দু বিধি বিধান রক্ষা করতে যে কোন ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছে। আর সেকারনেই আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবী তুলে ধরছি-
১। হিন্দু আইনের কোন ধরনের সংস্কার, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করা হবে না, হিন্দু আইনে কোন ধরনের হাত দেওয়া হবেনা মর্মে আগামী ৩০ আগষ্টের মধ্যে সরকারকে স্পষ্ট ঘোষনা দিতে হবে।
২। অবিলম্বে শাহীন আনামসহ যে সকল এনজিও হিন্দু পরিবার, সমাজ ও ধর্ম বিরোধী কর্মকান্ড
পরিচালনা করে হিন্দু সমাজ ও পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩। শাহীন আনাম গংদের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকট শর্তহীন ক্ষমা চাইতে হবে।
৪। আগামী ৩০ আগষ্টের মধ্যে সরকার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হলে সারাদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এতেও কাজ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




