ভারতের উত্তর ২৪ পরগনায় হাসপাতালের সামনে মাটিতে পড়ে বৃদ্ধ রোগী। স্ত্রী পাগলের মতো সাহায্য চেয়ে ছুটে বেড়ালেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন না কেউ। এই অমানবিক শহর তখন মোবাইলে ভিডিও করতে ব্যস্ত! আর তাই সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চালকও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ তার স্ত্রীর। সাহায্যের জন্যে এগিয়ে আসেনি হাসপাতালের কোনও স্বাস্থ্য কর্মীও। গাফিলতিতে প্রাণ গেলো মাধব দত্তের
সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যে ভাইরাল সেই ভিডিও। যা দেখে অনেকেই শিউরে উঠছেন। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ হাসপাতালে।
শনিবার বিকেল পাঁচটায় বনগাঁ এলাকার ব্যবসায়ী মাধব নারায়ণ দত্তকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে করোনা সাস্পেক্টেড ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হঠাত করেই অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগ জায়গায় চলে যায় যে রাতেই তাকে কলকাতা রেফার করা হয়।
অসুস্থ ওই রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার জন্য রোগীর স্ত্রী আলপনাদেবী একাই হাসপাতাল থেকে বের করে আনেন। আর তা আনার সময় মাধববাবু হঠাৎ করেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই অবস্থায় মাধববাবু মাটিতে পড়ে রীতিমত ছটফট করতে থাকেন।
ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের ডাক্তাররা এসে মাটিতে পড়ে থাকা মাধব নারায়ণ দত্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী আলপনাদেবী জানান, স্বামীকে অ্যাম্বুলেন্সের তোলার জন্য কেউ সাহায্য না করার কারণেই তিনি একাই অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করছিলেন। তখনই পড়ে যান তার স্বামী।
আলপনাদেবী আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় স্বামীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। আমি অক্সিজেন দেওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করেছিলাম। কেউ আমার কথা শোনেনি। রেফার করে দেওয়া হলেও, রোগীকে কেউ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়নি। আমি কতবার সকলের কাছে দৌড়েছি। শেষপর্যন্ত আমি নিজেই তোলার চেষ্টা করার সময় উনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর আমার ভাইকে ফোন করে ডাকি। সে এসে চিকিৎসককে ডেকে আনে। চিকিৎসক জানায় ওঁনার মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের গাফিলতির জন্য বিনা চিকিৎসায় আমার স্বামী মারা গিয়েছেন, এমনটাই অভিযোগ আলপনাদেবীর। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের সুপার শঙ্করপ্রসাদ মাহাত এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে বনগাঁ হাসপাতাল চত্বরে।




