ঈদকে সামনে রেখে আইন শৃঙ্খলা সভা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের

রাজিব শর্মা, (চট্টগ্রাম ব্যুরো): চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে জননিরাপত্তা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ জুন মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীরের সঞ্চালনায় সভায় সিএমপি, র‌্যাব, জেলা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বিআইডাব্লিওটিএ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল সার্জন অফিস, জনপ্রতিনিধি, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জননিরাপত্তা বিধান ও জনদুর্ভোগ লাঘবে এক গুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, এবার চট্টগ্রামবাসীকে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনের নিশ্চয়তা দিতে চায় জেলা প্রশাসন।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট নিয়ন্ত্রণ, জাল নোটের সরবরাহ রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জেলা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে চট্টগ্রামবাসীকে সুযোগ করে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ঈদে বাস, ট্রেন এবং নৌপথে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা যাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে, যাত্রীরা যাতে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি কিংবা ছিনতাইয়ের শিকার না হন এ জন্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।

সরকার নির্ধারিত সময়ে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ সভায় মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ঈদের আগে আমরা কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দেখতে চাই না। শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারিত সময়েই মিটিয়ে দিতে হবে। এ সময় তিনি ঈদ জামাতকে ঘিরে যে কোন ধরনের নাশকতা রোধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
আইন শৃঙ্খলা সভায় পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলো বড় বাধা। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই হায়রানির অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সবমিলিয়ে পরিবহন সেক্টরে আমরা ‘দুষ্ট চক্রের’ ভেতরে রয়েছেন বলে জানান তিনি। অতিরিক্ত ভাড়া যেন আদায় না করে সেদিকে পরিবহন নেতাদের লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে যানজট এড়াতে সড়কে পুলিশি তল্লাশি সীমিত করা হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে তল্লাশি চলবে। নৌ ঘাট, বাস ও রেল স্টেশনে পুলিশের নিয়মিত ফোর্স ছাড়াও মোবাইল টিম কাজ করবে। যেকোন ধরনের সমস্যা হলে যে কেউ ৯৯৯ এবং ৩৩৩ নাম্বারে অভিযোগ করে আমাদের কাছে প্রতিকার চাইতে পারেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।
ইভটিজিং এবং বখাটেপনার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে জানিয়ে পুলিশ সুপার মিনা বলেন, ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোর সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে বখাটেপনা করা হয়, ইভটিজিং করা হয়। যারা এসব করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এজন্য যেখানে সেখানে মার্কেটের সামনে যেন মোটরসাইকেল পার্কিং করে উঠতি বয়সের ছেলেদের আড্ডা দিতে না পারে সেজন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য রাখতে হবে সোজা জানিয়ে দেন তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।