আমাদের দেশে গণতন্ত্র নেই, গভর্নমেন্ট অব দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস -জি এম কাদের

আমাদের দেশে গণতন্ত্র নেই, গভর্নমেন্ট অব দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস -জি এম কাদের

বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই। যদি গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বলি, গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। আর রাজতন্ত্র যদি হয়, গভর্নমেন্ট অব দ্য কিং, বাই দ্য কিং, ফর দ্য কিং। এখন আমাদের দেশে গভর্নমেন্ট অব দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস, বাই দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস, ফর দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস। বলেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব ২ খন্দকার দেলোয়ার জালালী উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বর্তমান শাসন পদ্ধতিতে শতকরা একশ ভাগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রিসভা ও সংসদ পরিবর্তন করে কোনো লাভ নেই। নিজের অধীনে নির্বাচনে কেউ পরাজিত হতে চাইবে, তা আশা করা পাগলামি। বর্তমান পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সরকারের ক্ষমতার বাইরে আনতে হবে। ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ সবাই এরশাদ সাহেবের বিপক্ষে আন্দোলন করে। আবার বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ সবাই আন্দোলন করে ১৯৯৬ সালে, যখন বিএনপি নির্বাচন ব্যবস্থা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল।

১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন চিরস্থায়ীভাবে আমরা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চাই। ২০০৬ সালের পর বিএনপি যখন আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে চেয়েছিল তখনো জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগসহ সবাই মিলে আন্দোলন করেছিলাম। পরে ওয়ান ইলেভেন সরকার আসে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধান অনযায়ী নির্বাচন করতে হবে এর কোনো অর্থ নেই। কারণ, ১৯৯১ সালে ও ২০০৮ সালে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়নি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সবসময় সংবিধান মানেননি।  তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে ব্যবস্থা ছিল, তাও এখন বাতিল হয়েছে। তাই, এখন একটি নতুন ব্যবস্থা করা জরুরি, কোনো সরকার যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে না পারে।

তিনি বলেন, সরকার যদি আগ্রহ দেখায় অথবা সবাই যদি একটি ফর্মুলায় আসতে চায়, তবে আমরাও একটি প্রস্তাব দেব। আমরা যে প্রস্তাব দেব, তা শতভাগ গ্রহণযোগ্য হতে নাও পারে। তবে, সবার আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে। সেজন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।